কওমি মাদ্রাসা: বাস্তবতা, অপপ্রচার ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা

কওমি মাদ্রাসা নিয়ে বাস্তবতা, অপপ্রচার ও প্রয়োজনীয় সতর্কতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি লেখা প্রকাশ করেছেন আরজাবাদ মাদ্রাসার মুহতামিম ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসাগুলো দারুল উলুম দেওবন্দের নীতি-আদর্শ ও শিক্ষা কারিকুলামের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। দেশের কোটি মানুষের ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত এসব প্রতিষ্ঠান যুগ যুগ ধরে কোরআন-হাদিস, ইসলামী বিশুদ্ধ জ্ঞানচর্চা ও নৈতিক চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পাশাপাশি দেশপ্রেম, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা, সমাজসেবা, ইসলামী মূল্যবোধের সুরক্ষা এবং যোগ্য ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও কওমি মাদ্রাসার অবদান রয়েছে।

লেখায় কওমি মাদ্রাসাগুলোকে আকাবির-আসলাফের গুরুত্বপূর্ণ আমানত হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠান হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী, হযরত কাসেম নানুতবি, রশিদ আহমদ গাঙ্গুহি, শাইখুল হিন্দ, হাকিমুল উম্মত থানভী ও শাইখুল ইসলাম মাদানী (রহ.)-এর ইলম ও কোরবানির উত্তরাধিকার বহন করে চলেছে।

পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসাগুলোও বৃহত্তর সমাজের অংশ উল্লেখ করে লেখায় বলা হয়েছে, সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন অনিয়ম ও অবক্ষয়ের প্রভাব কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠানে পড়তে পারে। তবে অনিয়ম দূর করতে মূলধারার উলামায়ে কেরাম ও দায়িত্বশীল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন এবং এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

লেখায় আরও বলা হয়, দেশে স্বীকৃত শিক্ষা বোর্ড বা যথাযথ তত্ত্বাবধানের বাইরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত অনেক নূরানি, হিফজখানা ও প্রাথমিক পর্যায়ের মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক জবাবদিহিতা দুর্বল হওয়ায় বিভিন্ন সময় শারীরিক নির্যাতন, অতিরিক্ত শাস্তি, নৈতিক স্খলনসহ নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগ ওঠে।

এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতারও সমালোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অভিযোগ বা ঘটনার বিষয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে মাদ্রাসায় সংঘটিত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা, শারীরিক নির্যাতন বা অনৈতিক আচরণকে কোনোভাবেই সমর্থন বা আড়াল করার সুযোগ নেই বলেও লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন, অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে মজলিসে শূরা ও আমেলা গঠন, শিক্ষক নিয়োগে সতর্কতা, আর্থিক স্বচ্ছতা ও নিয়মিত অডিট, নিয়মিত তরবিয়তি কার্যক্রম, সীরাত ও আকাবির-আসলাফের জীবনী পাঠ, আবাসিক পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষকদের আচরণে শালীনতা, মহিলা মাদ্রাসায় নিরাপত্তা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়সহ নয়টি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।

লেখার শেষাংশে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার ঐতিহ্য ও অবদান ধরে রাখার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা দূর করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img