কাসেমী কাননের সাত রোজ; ফুল থেকে ফুলের পরশে: এইচ এমজুনাইদ

প্রকাশিত: 7:02 PM, August 30, 2020

কাসেমী কাননের সাত রোজ;
ফুল থেকে ফুলের পরশে

প্রাণপ্রিয় শায়েখ আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহুর খেদমত,সাহচর্য ও সান্নিধ্য থেকে জুলুমের শিকার হয়ে দীর্ঘ ১১ বছরের ভালোবাসার জায়গা হাটহাজারীকে বিদায় জানিয়ে ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে চলে আসলাম।

গত ২০ জুলাই চলে আসার সময় ক্বাবলাল মাগরিব হাটহাজারী মাদরাসার কেন্দ্রীয় বায়তুল করীম জামে মসজিদের বারান্দায় আল্লামা বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহু থেকে বিদায় নেওয়ার সময় একটি আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিলো।

আল্লামা বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহুকে জড়িয়ে ধরে যখন বলছিলাম- আজ আমার চলে যেতে হচ্ছে। আপনাকে ছেড়ে যেতে খুব কষ্ট হচ্ছে। আপনার যথাযথ খেদমত আমি করতে পারিনি। আমি মাফ চাই… তখন চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। অবুঝ শিশুর মতো অঝরে কেঁদেছিলাম।

সেদিন শায়েখও আবেগাপ্লুত হয়েছিলেন। আমার পিঠে হাত বুলিয়ে শান্তনা দিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে,ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ভাঙা কণ্ঠে বলেছিলেন- কান্দিও না। তোমার দ্বারা আমি কোন কষ্ট পাইনি। আমার জন্য তুমি বহু কষ্ট করেছো। যাও…তোমার জন্য আমার দুআ রইলো….

বাড়িতে আসার পর আম্মু সাফ জানিয়ে দিলেন-বাবা! হাটহাজারীর পরিস্থিতিতে তোমাকে নিয়ে আমরা চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিলাম। বাড়িতে এসেছো, এবার বাড়িতেই থাকো। পড়াশোনা যতটুকু করেছো ব্যস। আর প্রয়োজন নেই…।

বহু আগ থেকেই ইচ্ছে ছিল ইফতা পড়বো। একটা বছর ইফতা পড়ার জন্য আম্মুকে বুঝিয়ে শুনিয়ে কোনরকম রাজি করালাম। কিন্তু কেথায় ভর্তি হবো তা নিয়ে ছিলাম দ্বিধাদ্বন্দে।

আল্লামা বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহুর সান্নিধ্যে থেকে হকের উপর অটল অবিচল থাকার সবক শিখেছি। পেয়েছি নীতি আদর্শের প্রশ্নে বাতিলের সাথে আপোষ না করে ন্যায়নীতির উপর ইস্তেক্বামাত থাকার শিক্ষা । তাই এ শিক্ষা ধরে রাখার জন্য ঐরকম মানের মহান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ছিলো আমার প্রথম পছন্দের।

আল্লামা বাবুনগরী ও বাংলার মাদানী খ্যাত আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী হাফিযাহুমাল্লাহু আমার চেতনার বাতিঘর,আদর্শের প্রাণপুরুষ। এ দুই মহান মনিষী আমার অনুপ্রেরণার উৎস,আস্থা ও সম্মানের পাত্র।

হাটহাজারী থেকে আসার পর সালাতুল হাজাত পড়ে ভালো কোন মাদরাসায় ইফতা ভর্তির সুযোগ লাভের জন্য আল্লাহ তায়া’লার নিকট অনেক দুআ করেছি। আল্লাহ তায়া’লা হয়ত আমি অধমের ডাক শুনেছেন।নয়ত আমার মতো অযোগ্য কাসেমী কাননে সুযোগ পাবো তা কল্পনাও করিনি।আলহামদুলিল্লাহ কাসেমী কাননে আজ আমার সাত রোজ অতিবাহিত হলো,আলহামদুলিল্লাহ।

মেখল মাদরাসায় সাত বছর আর হাটহাজারীতে চার বছর। আমার পড়ালেখার পুরোটা সময়-ই চট্টগ্রামের পরিবেশে। হঠাৎ করেই ঢাকায় আসা। নতুন জায়গা;নতুন পরিবেশ। তাই প্রথম এসে অনেকটা ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু জামিয়ার উস্তাদ মহোদয়গণের পিতৃ স্নেহ আর পুরাতন ছাত্র ভাইদের আন্তরিকতা, স্নেহ,মায়া-মমতা ও ভালোবাসা আমার নতুনত্বের সকল পেরেশানি দূর করে দিয়েছে। নতুন ছাত্রদের প্রতি পুরাতন ছাত্ররা এতটা সদয় ও আন্তরিক হতে কোথাও দেখিনি আমি।

কাসেমী কাননে এসে নতুন ছাত্রদের প্রতি পুরাতন ছাত্রদের আচার-আচরণ, আতিথেয়তা দেখে আমি যারপরনাই মুগ্ধ হয়েছি।

বিশেষকরে আল্লামা কাসেমী হাফিযাহুল্লাহুর সংশ্রবধন্য( মাহদী হাসান সি.জে.বি) ভাই এর নাম উল্লেখ না করলে একপ্রকার অকৃতজ্ঞতা হয়ে যাবে।সদা হাস্যোজ্জ্বল, নিরহংকারী এই ভাইটি নতুন এ ক্যাম্পাসে আমার যাবতীয় কিছুর ব্যবস্থাপনায় যেই কষ্ট করেছেন এর ঋণ কভু পরিশোধ করার মত নয়। শুধু বলি- জাযাকুমুল্লাহ ফিদ্দারাঈন…

হে আল্লাহ! কাসেমী কাননের ভ্রমর হয়ে তাফাককুহ ফিদ্দীন হাসিলের তাওফীক দান করুন আমিন।

[এইচ.এম. জুনাইদ
গুলশান|ঢাকা
৩০ আগস্ট, রবিবার]