আল্লামা আহমদ শফী রহ,এর ইন্তেকাল: পরবর্তি নেতৃত্ব নির্বাচন সম্পন্ন হোক সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায়

প্রকাশিত: 9:37 AM, October 3, 2020

দেশের সর্ববৃহৎ ও প্রাচীনতম কওমি মাদ্রাসা আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর মহাপরিচালক শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী রাহিমাহুল্লাহ গত ১৮ই সেপ্টেম্বর’২০ রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন । এর আগে হযরতের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাটহাজারী থেকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এবং সেখান থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে আজগর আলী হাসপাতালে নেয়া হয় । তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে গোটা দেশের ধর্মীয় অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া । পরদিন ১৯শে সেপ্টেম্বর’২০ মরহুমের বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফের ইমামতিতে হাটহাজারী মাদ্রাসা চত্বরে স্মরণকালের বৃহৎ নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয় । জানাজা শেষে হযরতের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী হাটহাজারী মাদ্রাসার কবরস্থানে দাফন করা হয় ।

শাইখুল ইসলামের ইন্তেকালের মধ্য দিয়ে মূলত একটি যুগের পরিসমাপ্তি ঘটে । তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ধর্মীয় অঙ্গনে সর্বোচ্চ সম্মানিত ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আসনে সমাসীন ছিলেন । তাই তাঁর ইন্তেকালের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইসলামী অঙ্গনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে বড় রকমের শূন্যতা সৃষ্টি হল । তিনি একাধারে দেশের শীর্ষ মাদরাসা, শিক্ষা বোর্ড, হেফাজতে ইসলাম সবগুলোর প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন । হযরতের ইন্তেকালের পর এমন কোন উত্তরাধিকারী নেই যিনি উপরোক্ত সবগুলো ক্ষেত্রে এককভাবে স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন । বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি দায়িত্বে আসবে বলে বোদ্ধা মহল মনে করছে । ইতোমধ্যে হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালকের দায়িত্ব নিয়ে সৃষ্ট সকল সংকটের অবসান ঘটে সুশৃংখল পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য‌ও সুন্দর প্রক্রিয়া গ্রহন করা হয়েছে ‌। শিক্ষাবোর্ড এবং হেফাজতে এখনো তার উত্তরাধিকারী নির্বাচন হয়নি । অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে । আমরা আশা করি শায়খুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফীর অন্তর্ধানে সৃষ্ট শূণ্য জায়গাগুলোতে যোগ্য ব্যক্তি অধিষ্ঠিত হবেন এবং দায়িত্বশীলতার সাথে তারা কাজ করবেন ।
জীবনের শেষ সময়ে হযরতের পক্ষ থেকে যুগান্তকারী বেশ কিছু এমন সিদ্ধান্ত এসেছে, যা পরবর্তি উত্তম উত্তরাধিকারী নির্বাচনের পথ উম্মোচন করেছে এবং অযোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনের দুয়ার বন্ধ করেছে ৷ এটি হযরতের প্রতি আল্লাহ তাআলার এক বিশেষ রহমত হিসাবেই ধরে নেয়া যায় ৷ একইভাবে হযরতের ইন্তেকালকে অস্বাভাবিক সাব্যস্ত করার যে অপরিণামদর্শি তৎপরতা শুরু হয়েছিল, আলহামদুলিল্লাহ হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষকবৃন্দ ও হযরতের পরিবারবর্গের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য আসায় তা হালে পানি পায়নি ৷
আমরা আশা করব বিতর্ক ও অসুন্দর পরিস্থিতি সৃষ্টির যাবতীয় প্রবণতা বন্ধ হবে এবং শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফীপরবর্তি যুগ তাঁর রেখে যাওয়া উত্তম আদর্শের আলোকে পরিচালিত হবে ৷

লেখক : মাওলানা মামুনুল হক চলতি মাসের মাসিক রাহমানী পয়গাম সম্পাদকীয় কলাম।