‘চিত্রনায়ক অনন্ত জলিলের ধর্ষণ বিরোধী ভিডিও বার্তা ও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি’

প্রকাশিত: 9:35 AM, October 12, 2020

এক অভিনেতা বলেছে, ‘অশালীন কাপড় পড়া থেকে বিরত থাকুন। আল্লাহ আমাদের যেমন পোশাক পড়তে আদেশ করেছেন, সেরকম পোশাক পড়ুন। এতেই কমতে পারে ধর্ষণ।’

ধর্ষকদের উদ্দ্যেশ্য সেই ভিডিও বার্তাতেই রয়েছে কঠোর কিছু কথা। কিন্তু সেটা আলোচনায় আসেনি। সে ট্রলের শিকার হলো মেয়েদের ভাল কাপড় পড়ার অনুরোধ করাতে। দিক-দিগন্তে তাকে নিয়ে নিন্দার ঝড়। সে পড়লো তুমুল সমালোচনার মুখে একটি ভাল কথা বলার জন্য। অন্যদিকে পরিচালক প্রযোজকদের খুশি করা কিছু মঠেল আপুরা তাকে (কথিত) বয়কটও করেছে শুনলাম।

তাদের বক্তব্য, ‘যদি মহিলাদের পোষাক ধর্ষণের কারণ হয়ে থাকে তাহলে মাদরাসার (পর্দাশীল) ছাত্রী ও শিশুরা কেন ধর্ষিতত হচ্ছে? ধর্ষণে মেয়েদের পোশাক ফ্যাক্ট না। অভাব সামাজিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির।’

সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে ধর্ষণ প্রসঙ্গে মেয়েদের পোশাক আলোচনায় আসলেই কিছু মঠেল আপু-মনিরা ক্ষেপে উঠে। গোড়ামমার্কা যুক্তি দেয়। আর পর্দানশীল মহিলাদের সে যুক্তির ব্যানার হিসেবে ব্যবহার করে।

উত্তরটি আমি এক কথায় দিতে পারি, তবে বুঝার সুবিধার্থে একটু আগে থেকে শুরু করছি,

প্রশ্নগুলোর মনে মনে উত্তর খুজুন:

  • একজন ধর্ষক কী দৈনিকই ধর্ষণ করছে?
  • সব ছেলেরাই কি ধর্ষণ ক্রাইমের সাথে জড়িত?
  • মেয়েদের একটু স্পষ্ট দর্শন বা স্পর্শ ছাড়া কি একজন স্বাভাবিক পুরুষের যৌনকর্মে লিপ্ত করা সম্ভব?

আপনি একজন মঠেল বা ফ্রিডম চিন্তাভাবনার নারী হয়ে রাস্তায়, স্যোশ্যাল মিডিয়া বা টিভিতে প্রকাশ্য দেখাচ্ছেন, আর ছেলেরা ফ্রিতে পেয়ে আগ্রহী হয়ে দেখছে। একজন পুরুষ যতই নিজেকে গুটিয়ে রাখুক না কেন, একজন নারী আকর্ষণ অবশ্যই সে এড়াতে পারবে না। যদি না আল্লাহ ভয় তার ভিতর প্রচুর পরিমান না হয়।

কর্মফল দাড়ালো, আপনাকে সাদরে খাচ্ছে আপনার পরিচালক, প্রযোজক, বয়ফ্রেন্ড বা যাস্টফ্রেন্ড। এছাড়া যত পুরুষ আপনাকে পায়নি তারা আক্রান্ত হচ্ছে হস্তমৈথুন সহ বিভিন্ন জিনা ব্যাভিচারে। এটা বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি।

ধর্ষনের বিষয়টিও একই সূঁতোয় গাঁথা। আমি বলছি না যে শুধু পোশাকই দায়ী। আবার কারো পক্ষ হয়ে সাফাইও গাচ্ছি না। কিন্তু আপনার বেপরোয়া উগ্র চলা-ফেরা একজন ধর্ষককে আকর্ষিত করছে। যেকারণে আপনি হচ্ছেন ধর্ষিত। আপনাকে হাতে পায়নি! বলিরপাঠা হচ্ছে তখন অন্য নারী। হতে পারে সে পর্দানশীল বা শিশু।

একজন পুরুষের অন্তরে যখন আল্লাহ ভয় না থাকে, তখন সে যেকোন ধরণের পাপে অবাধে লিপ্ত হয়ে যায়। কারণ তার অন্তরে জবাবদিহীত’র ভয় নেই। শিশু, মেয়ে, বৃদ্ধা, সমবয়সি পুরুষ এমন কি পশু ধর্ষণের মত জঘন্য কাজও তার মূল্যবোধে নাড়া দেয় না।

এখন বলি পর্দানশীল মহিলাগণের প্রসঙ্গে। মূলত এখন অধিকাংশ মেয়েরাই যেই ধরণের হিজাব বা বোরকা পড়ছে, তাকে ‘পর্দা’ বলা ভুল হবে। তাই সবার উচিত, আল্লাহকে ভয় করা, নিজেদের লেবাস-পোশাকে শালীনতা বজায় রাখা, সন্তানদের ছোট থেকেই সভ্য সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য প্রার্থনা করা।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহিহ বুঝ দান করুন। আমিন!

তামীম আল মাহমুদ
সহকারী সম্পাদক টাইমস রিপোর্ট টোয়েন্টিফোর ডটকম।