সোশাল মিডিয়ায় লক্ষ নারীর ভুয়া পর্ন ভিডিও

প্রকাশিত: 9:47 AM, October 22, 2020

সারা বিশ্বের সোশাল মিডিয়া থেকে এক লক্ষেরও বেশি নারীর ছবি সংগ্রহ করে সেগুলো দিয়ে ভুয়া নগ্ন ছবি তৈরি করা হচ্ছে এবং অনলাইনে তা শেয়ার করা হচ্ছে বলে এক রিপোর্টে জানা যাচ্ছে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহার করে এসব ছবি থেকে নারী দেহের পোশাক সরিয়ে ফেলা হচ্ছে এবং মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের মাধ্যমে এসব নগ্ন ছবি ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইন্টেলিজেন্স কোম্পানি সেনসিটির তৈরি এই রিপোর্টটি আরো জানাচ্ছে যে এসব বিবস্ত্র নারীর অনেকেই অল্পবয়সী।

কিন্তু যারা এসব করছে তারা প্রায়ই একে শুধুমাত্র ‘বিনোদন’ হিসেবে বর্ণনা করে থাকে।

বিবিসি এধরনের একটি সফটওয়্যার পরীক্ষা করে দেখেছে। তবে তার ফলাফল আশানুরূপ হয়নি।

কিন্তু সেনসিটি দাবি করছে, ‘ডিপফেক বট’ নামে প্রযুক্তি ব্যবহার করে নারীদের নগ্ন বানানোর কাজ চলছে।

ডিপফেক বট প্রযুক্তি দিয়ে যেভাবে নারীকে নগ্ন বানানো হয়।
ছবির ক্যাপশান,
ডিপফেক বট প্রযুক্তি দিয়ে যেভাবে নারীকে নগ্ন বানানো হয়।

ডিপফেক হলো কম্পিউটারে তৈরি এক ধরনের ছবি বা ভিডিও যা দেখলে ধরা যাবেন না সেটি নকল। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রায়ই সেলেব্রিটিদের নিয়ে ভুয়া পর্নোগ্রাফিক ভিডিও ক্লিপ তৈরি করা হয়।

তবে সেনসিটির প্রধান নির্বাহী জর্জিও পাত্রিনি বলছেন, সেলেব্রিটিদের ছেড়ে সাধারণ মানুষের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও কিংবা ছবি তৈরি করার ঝোঁক এখন বাড়ছে।

“সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে কারো একটি ছবি থাকলেই তাকে নিয়ে এ ধরনের ছবি তৈরি করা সম্ভব,” বলছেন তিনি।

টেলিগ্রাম ডিপফেক বট
মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের প্রাইভেট মেসেজিং চ্যানেলে একটি শক্তিশালী এআই বট (রোবট প্রোগ্রাম) ব্যবহার করা হয়। এর ব্যবহারকারীরা এই বটকে কোন নারীর ছবি পাঠাতে পারে। এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বটটি কয়েক মিনিটের মধ্যে ছবিতে ঐ নারীর দেহ থেকে কাপড় সরিয়ে ফেলতে পারে। এর জন্য টেলিগ্রামের গ্রাহককে কোন অর্থও দিতে হবে না।

বিবিসি কয়েকজনের অনুমতি নিয়ে তাদের ছবির ওপর পরীক্ষা চালিয়েছে। কিন্তু কোন পরীক্ষার ছবিই বাস্তবসম্মত দেখায় নি।

এধরনের একটি অ্যাপ গত বছর বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন মনে করা হচ্ছে ঐ সফটওয়্যারের একটি ক্র্যাকড ভার্সন এখন আবার ব্যবহার করা হচ্ছে।

যে এই সেবাটি দিচ্ছে তার অ্যাডমিন, যিনি নাম ব্যবহার করেন শুধু ‘পি’, তিনি বলছেন, “এসব আমি কেয়ার করি না। এটা হচ্ছে শুধুই বিনোদন, এবং এতে কারও কোন ক্ষতি করা হচ্ছে না।

“এটা দিয়ে কেউ কাউকে ব্ল্যাকমেইল করতে পারবে না। কারণ এসব ছবির মান বাস্তবসম্মত না।”