পদ-পদবি আর অর্থকড়ি নয়; নীতি আদর্শে অটল থাকতে চান আল্লামা বাবুনগরী

প্রকাশিত: 9:03 AM, June 17, 2020
আল্লামা বাবুনগরী

কোন পদ-পদবি আর অর্থকড়ি নয় নীতি আদর্শের উপর অটল অবিচল থেকে আমরণ ইসলাম, মুসলমান,দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করতে চান আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহু। বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা ইউসুফ বান্নুরী রহ. শিষ্যত্ব গ্রহণ করে হাদীসের উপর উচ্চ শিক্ষা অর্জনের পর দেশে ফিরে তিনি সুনাম-সুখ্যাতির সাথে জামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় হাদীসের কিতাবের পাঠদান করছিলেন। ২০০৪ সনে শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী হাফিযাহুল্লাহুর বারবার আহবানের ফলে তিনি হাটহাজারী মাদরাসায় সিনিয়র মুহাদ্দিস হিসেবে নিয়োগ হয়েছেন।

বাবুনগর মাদরাসা ছেড়ে তিনি নিজ থেকে হাটহাজারী আসেননি তাঁকে জোরপূর্বক আনা হয়েছে। ২০১২ সনে আল্লামা বাবুনগরীকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব নির্বাচিত করা হয়।তিনি বারবার এ দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানানোর পরও জোরপূর্বক তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মহাসচিবের পদ তিনি চাননি তাকে দেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সনে আল্লামা শাহ আহমদ শফী হাফিযাহুল্লাহু দারুল হাদীসের হাজার হাজার ছাত্র ও উস্তাদের উপস্থিতিতে নিজের জিম্মায় থাকা বুখারী শরীফ আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী সাহেবকে পড়ানোর দায়িত্ব অর্পন করেছেন।আল্লামা বাবুনগরী সাহেব বুখারী শরীফ চাননি তাঁকে দেওয়া হয়েছে।

২০১৭ সনে শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী হাফিযাহুল্লাহুর ও মজলিসে শুরার সর্বসম্মতিক্রমে আল্লামা বাবুনগরীকে হাটহাজারী মাদরাসার মুঈনে মোহতামীম বানোনো হয়েছে। সে সময় আল্লামা বাবুনগরী এ জিম্মাদারি নিতে বারবার অপারগতা প্রকাশ করেছেন। তাঁকে মুঈনে মোহতামীম নির্বাচন করা হয়েছে এ খবর শুনে তিনি কান্না করেছেন। এ বিশাল জিম্মাদারির যথাযথ হক আদায় করতে পারবেন কিনা সেই ভয়ে দীর্ঘ সময় হাত তুলে আল্লাহর দরবারে কেঁদে কেঁদে দুআ করেছেন। তা আমরা কাছে থেকে দেখেছি। চার পাঁচ ঘন্টা পর্যন্ত তিনি কারো সাথে কথাও বলেননি। তিনি মুঈনে মোহতামীম হতে চাননি তাঁকে জোরপূর্বক বানানো হয়েছে।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী সব সময় বলেন পদ ও অর্থের লোভ ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে। তিনি এ কথা দীপ্ত কণ্ঠে বলেন যে -দুনিয়ার সমস্ত পদ-পদবি আর টাকা পয়সা আমার পায়ের নীচে। আমরন আমি নীতি আদর্শের উপর অটল অবিচল থেকে নির্ভিকতার সহিত হক কথা বলতে চাই।নীতি আদর্শ আমার বড় জিনিস।দুনিয়াকে আমি লাথি মারতে পারি তবে নীতি আদর্শ থেকে চুল পরিমাণ সরতে পারি না। আমার জান যেতে পারে কিন্তু বাতিল আর ইসলাম বিরোধী অপশক্তির সাথে এক মুহূর্তের জন্যও আপোষ করতে পারি না।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী পদ-পদবি আর অর্থকড়ি চাইলে আজ বহু কিছু হতে পারতেন। হসপিটালে চিকিৎসার বেডে শুয়েও সরকারি খরচে বিশ্বের যে কোন রাষ্ট্রে উন্নত গ্রহণের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অফারকে সেকেন্ডের মধ্যে বিনীতভাবে ফিরিয়ে দিয়েছেন এই আল্লামা বাবুনগরী। সরকারি খরচে বিশ্বের যে কোন রাষ্ট্রে উন্নত চিকিৎসার অফারকে মুহুর্তের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়ার মতো সাহস ক’জনের আছে ? পদ-পদবী আর অর্থকড়ি নয় নির্ভিকতার সহিত বলিষ্ঠ কণ্ঠে হক বলা ও নীতি আদর্শের উপর অটল অবিচল থাকাটাই আল্লামা বাবুনগরীর সবচে বড় বৈশিষ্ট্য। দেশবিদেশে লক্ষ কোটি মানুষ আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে ভালোবাসে একমাত্র নীতি আদর্শের উপর অটল অবিচলতার কারণে।আল্লামা বাবুনগরীর উপর মানুষের আস্থা বাতিলের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ঈমানদীপ্ত কণ্ঠে হক বলার কারণে। সুতরাং -ষড়যন্ত্র করে পদ-পদবী থেকে সরালেও কোটি মানুষের হৃদয় থেকে আল্লামা বাবুনগরীকে সরানো যাবে না। আজকের ষড়যন্ত্রকারীরা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে কিন্তু আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর নাম স্বর্ণাক্ষরে যুগের পর ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ থাকবে,ইনশাআল্লাহ। মুসলিম উম্মাহর ঈমান আকিদা রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী মজলুম আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে দীর্ঘায়ু করুন, আমিন