বেফাকের অভিনব দুর্নীতি নিয়ে মুখ খুললেন উবায়দুর রহমান খান নদভী

প্রকাশিত: 1:39 PM, July 15, 2020

সম্প্রতি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের শীর্ষ কয়েকজন মুরুব্বীদের ব্যাপারে বেফাকের টাকা আত্মাসাৎ,প্রশ্ন ফাঁস নানা অভিযোগ উঠে এসেছে।গতকাল বেফাকের খাস কমিটির মিটিং দূর্নীতি,প্রশ্ন সহ নানা অভিযোগ পাওয়ায় তিনজন স্থায়ী ভাবে বহিস্কার করা হয়েছে।তবে তাদের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস নিজে জড়িত বলে অভিযোগ কওমী মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের তার ব্যাপারে তদন্ত চলিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বেফাক।

বেফাকের কি ধরণের দূর্নীতি হয়ে থাকে সে বিষয়টি নিয়ে গতকাল রাতে একটি লাইভ প্রোগ্রামে কথা বলেছেন ইনকিলাব সহকারী সম্পাদক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী। তিনি বলেন,বেফাকের পরিক্ষার জন্য যে খাতা কেনা হয় সেগুলো কেনা হয় সেখানে রয়েছে দূর্নীতি ১০টাকা ধরের খাতা কিনে ভাউচারে লেখা ১৫টাকা।আবার ৬০গ্রাম খাতা কিনলে লেখা হয় ৮০ গ্রাম আবার কখনো ৭৫ গ্রাম কিনলে লেখে ১০০গ্রাম।

তিনি বলেন, কখন আবার মিটিং যোগ দেয়ার পর মুরুব্বীদের গাড়ীতে গন্তেব্য চলে ভাউচারে যাতায়ত খরচ লিখে টাকা নিয়ে নেয়। মিটিং বসলে আপ্যয়নের ব্যবস্থা করা হয় সেটার বিল হয়তো কেউ দিয়ে যায়। পরে দেখা কেউ হয়তো অফিসে থেকে যায় তখন তাদের খানাপিনার বিল বেফাকের বহন করতে হয়।তারা ভাউচার লিখে দিয়ে যায় এধরণের কাজ গুলো পরিদর্শকদের মধ্যে হয়।

তিনি আরোও বলেন,বেফাকের জমি কেনার মধ্যেও দূর্নীতি রয়েছে।বেফাকের একটি বিল্ডিং হয়েছে স্টীলের সেই বিল্ডিং খরচ হয়েছে ৮০লক্ষ টাকা দুনিয়ার সবাই বলবে যদি বিল্ডিং টাকা দিয়েও ঢালাই দেয়া হয় তাহলে ৭৮লক্ষ টাকা খরচ হওয়ার কোন সম্ভবনা নেই।এরকম দূর্নীতি হয় একজনে করে দুইজনে করে এটা আবার সাইন হয়ে পাসও হয়ে যায়।

বেফাকের প্রকাশনীতে থেকে যে সমস্ত বই ছাপানো হয় সেগুলো স্বাভাবিক শেষ হয়ে যায়।পরে দেখা যায় বেফাকের ভিতরের কর্মীরা নকল বই ছাপায় এতে করে বেফাকের নিজস্ব বই বিক্রি হয় নকল বই বিক্রি হয়।এরপর যারা নকলবাজ আমার তাদের সাংবাদিক দিয়ে ধারিয়ে দিবো বলি তখন কেউ বলে উঠে বেফাকের ভিতর সাংবাদিক ঢুকলো কেন? র‌্যাবের হাতে তুলে দিতে চাইলে বলে নানা ওলামায়ে কেরামের শান নষ্ট। মোট কথা সমস্ত নকল করা বইয়ের টাকা কর্মকতা খেয়ে ফেলে আসল বইয়ের সর্ট ফেলে দেয়।সেই নকল বইয়ের টাকা গুলো যখন ফিরে আসে তখন কেউ জানে যে কারা এই টাকা খায়, আবার অনেকে জানে না বলে কোন আহলে খায়ের বেফাকে যারা কাজ করে তাদেরকে দিয়েছে, তখন তারা নিজের হাতে না ধরে প্যাকেটে ভরে সেটা নিয়ে যায়।আর যারা টাকা নেয় না তারা হজ্ব করে আসে।

তিনি আরোও বলেন, একজন প্রকাশক আল্লাহ ওয়ালা এবছর খুবই লাভবান হইছে এজন্য আমাদের বেফাকের দুইজনকে হজ্বে পাঠাবে।নাম বলছি না বেফাকের মিটিং বসেন আমরা সুদ খাইনা কিন্তু সুদের এসির বাতাস খাই। বেফাকের দূর্নীতির সাথে জড়িত রয়েছে কিছু সুবিধাভোগী লোকজন। টিআর/মানসুর