বিপদটা আনাস সাহেব নিজের ঘাড়েই টেনে নিলেন

প্রকাশিত: 7:52 PM, July 15, 2020

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এর সংকট আরও গভীর হলো। বেফাকের তিনজন কর্মকর্তাকে বেফাকের বিশেষ কার্যকরী পরিষদের মিটিংয়ে বরখাস্ত করা হলো‌ । কিন্তু অভিযোগের আঙ্গুল যেহেতু মহাসচিব এর দিকেও উঠেছে, তাই এটার সমাধান ঢাকা বোর্ড মিটিংয়ে যদি হয়ে যেত তাহলে ভালো হতো। এটাকে হাটহাজারীতে টেনে নেওয়ার মাধ্যমে বিষয়টাকে আরও জটিল করে দেওয়া হলো।

এখন যদি সম্মানিত মহাসচিবকে বোর্ডের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি না দেওয়া হয় তাহলে মানুষ পূর্বধারণা মোতাবেক ধরে নেবে, আমরা তো আগেই জানতাম হাটহাজারীতে গেলে এই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ আল্লামা আহমদ শফী দামাত বারাকাতুহুম এর সামনে আমাদের মুরুব্বিরা সাহস করে বিষয়টি সঠিকভাবে উত্থাপন করবেন না। ওনাকে যেভাবে বোঝানো হবে সেভাবেই ফায়সালা হবে।

বিষয়টি যদি হালকাভাবে উপস্থাপন করা হয় তাহলে তিনি মহাসচিবকে স্বপদে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দিতে পারেন, আর যদি কঠিন ভাবে উপস্থাপন করা হয় তাহলে তিনি হয়তোবা অব্যাহতি দানের সিদ্ধান্তে আসতে পারেন।

যদি মহাসচিবকে অব্যাহতি দান করেন তাহলে যারা আন্দোলন করছে, যারা বিভিন্নভাবে দাবি জানাচ্ছে, তাদের সেই দাবি বাস্তবায়িত হলো। আর যদি সেটা বাস্তবায়িত না হয়, উনাকে স্বপদে বহাল রাখা হয় তাহলে মনে করবে, এটা জনাব আনাস সাহেবের কাজ। তাহলে জনাব আনাস সাহেবের ঝুঁকিটা বেড়ে গেল না?

এতটা সুস্পষ্ট অভিযোগ ওঠার পর স্বপদে বহাল থাকাটা বড়দের জন্য শোভনীয় হচ্ছে না। অভিযোগ ছোটখাটো নয়। দীর্ঘদিনের জঞ্জাল এখানে ঘাপটি মেরে আছে। সুতরাং এখন একমাত্র সমাধান হলো মহাসচিব সাহেবের স্বেচ্ছায় পথ থেকে সরে দাঁড়ানো এবং অন্যদের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া। এটা কোন জিদের বিষয় নয়। এটা একটি জাতীয় বিষয়। এর সাথে গোটা কওমি জগতের নতুন প্রজন্মের আলেমদের চ্যালেঞ্জ ও জড়িত।

লেখক সৈয়দ শামসুল হুদা
জেনারেল সেক্রেটারি
বাংলাদেশ ইন্টেলেকচুয়াল মুভমেন্ট বিআইএম