জনঅধিকার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তরুণদের অগ্রগামী হতে হবে।

তামীম আল-মাহমুদ তামীম আল-মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক, টাইমস রিপোর্ট

প্রকাশিত: 8:42 AM, July 17, 2020

নূর হোসাইন সবুজ |

দেশ ও জাতির উন্নয়ন অগ্রগতির ক্ষেত্রে, কোনো কুসংস্কার-প্রথা কিংবা সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক অবক্ষয় দূর করতে সেই দেশ ও জাতির তরুণ নেতৃত্বের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের ইসলামী সংগঠনে যুক্ত করে সাংগঠনিক কাজে প্রশিক্ষণ দিয়ে দল সুসংগঠিত করা সময়ের দাবী। প্রশিক্ষিত কর্মীরা যাতে মানুষের কল্যাণ ও আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে অগ্রণী ভুমিকা রাখতে পারে।

আমরা জানি, ৬৯’র গণ-অভ্যুত্থান ৫২’র ভাষা আন্দোলন ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধ , ৯০’র স্বৈরশাসক বিরোধী আন্দোলনে তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। যুগে যুগে তরুণরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাদের নেতৃত্বের গুণে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করেছে।

হালের তরুণরাও ‘৫২’ আর ‘৬৯’র তরুণদের দিক থেকে কোন অংশে কম নয়! কোটা সংস্কার আন্দোলন। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন সহ যেকোনো ইস্যু ভিত্তিক আন্দোলনে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে তরুণরা- চাইলে সব কিছু সম্ভব। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী বা একশ্রেণীর লোকেরা চায় না এ দেশের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা রাজনীতিতে আসুক! কেননা পরিবর্তনকে তারা ভয় পায়।

আমাদের দেশের রাজনীতিতে তরুণদের সরব পদচারণা না থাকার কারণে দেশীয় রাজনীতিটা আজ ব্যবসায়ীদের হাতে। তারা সবাই ক্ষমতার রাজনীতিতে মত্ত। স্বার্থের রাজনীতি দৃশ্যমান। দেশের জন্য তারা কিছুই করে না। সবাই পকেট ভরার ধান্ধায় মত্ত।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, সমাজ যখন রাজনৈতিকভাবে অসচেতন হয়, তখন তা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কখনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। তাই সব অন্যায়ের প্রতিবাদ এই তরুণদেরকে এখনই করতে হবে। নিজেদের প্রমাণ করে দিতে হবে আমরাই দেশের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। কেননা দেশের মঙ্গলে আমরা কাজ করি! রাজনীতির নামে, খুন, হত্যা, লুটপাট, বিরোধী মত দমন এসব স্বাধীনতার পক্ষের কোন কাজ নয়।

তাই মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস, পটভূমি, এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত হতে হবে। আর এ দায়িত্ব দলমত নির্বিশেষে সকলেই কাঁধে তুলতে হবে । তরুণ মেধাবীরা এহেন মূহুর্তে রাজনীতিতে না আসলে, জনঅধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার না হলে, রাজনীতি মেধাশূন্য হয়ে যাবে। ন্যায়, ইনসাফ, সুবিচার ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে কাঙ্খিত সফলতা অর্জন অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।

তাই আসুন, জনগনের কল্যাণে, দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে আমাদের তরুণ ছেলেদেরকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষিত করে এখনই মাঠে-ময়দানে কাজের জন্য প্রস্তুত করি। পরিবর্তন করি এ সমাজ ব্যবস্থার।

প্রবাদ আছে- এই সমাজ নষ্ট সমাজ ভাঙ্গতে হবে। গড়তে হবে নতুন সমাজ। তরুণরা রাজনীতিতে আসলে দেশ সঠিক নেতৃত্ব ও সুস্থধারা খুঁজে পাবে। সুস্থ রাজনীতি বাঁচলেই বাঁচবে বাংলাদেশ।

আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে আমার সোনার বাংলাকে নতুন করে ঢেলে সাজায়। আল্লাহই একমাত্র তাওফিক দাতা।

লেখকঃ
নূর হোসাইন সবুজ
শিক্ষার্থী, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরী