স্মৃতিতে আশরাফ মাহদী: সত্যবাদী আপোষহীন এক অজেয় পৃথিবী!

প্রকাশিত: 10:42 AM, July 27, 2020

বন্ধুপ্রতিম আশরাফ মাহদীর সাথে পরিচয় ২০১৫সালে। প্রথম সাক্ষাতেই ঋদ্ধ হওয়ার গুণাবলী লক্ষ্য করি। সত্যানুসন্ধানী হিসেবেই পাঠ করি। মুখে নির্মল হাসি বুকে ঈমানী বলের তেজস্বীয়তা প্রকাশ পায়! জীবন পরিক্রমার হিসেবে আমরা সমবয়সী। আমি যখন রাজধানী ঢাকায় লালবাগ থানার ছাপড়ামসজিদের কাছে একটি প্রাইভেট মাদরাসায় শিক্ষকতা করি, তিনি তখন দাওরায়ে হাদীসে পড়েন, মুফতি আমিনীর নাতি হিসেবে সবারপ্রিয় এবং মেধাবী মুখ। লালবাগ জামিয়া ও শাহী মসজিদ একইস্থানে হওয়ায় আমি প্রায় তাঁর দেখা পেতাম। বেশির ভাগ সময় শাহী মসজিদে নামাজ আদায়ে যেতাম। কখনো কখনো মাওলানা রেজাউল কারীম ভাই সাথে থাকতেন, কখনোবা মাওলানা আহমাদুল হক উমামাও থাকতেন।

২০১৬ সালে জামিয়া কুরআনিয়া লালবাগের ইফতায় ভর্তি হন আমাদের সিলেটের মাওলানা আবুল কালাম আযাদ। সে বছরই ইফতা পড়েন আজকের নন্দিত তরুণ আলেম মাওলানা আশরাফ মাহদী আমিনী আল আজহারী। অবশ্য তিনি তখন উক্ত জামিয়ার শিক্ষকও! একই মাদরাসায় একদিকে ইফতা পড়ছেন অপরদিকে শিক্ষকতা করছেন তিনি। এ থেকেই অনুমান করুন, কতটুকু মেধাবী আর প্রতিভাবান হলে এমনটি সম্ভব হয় এবং উস্তাদগণ এমন সুযোগ দেন!! তো ছাত্র জমিয়ত কর্মী মাওলানা আবুল কালাম গোয়াইনঘাটীর সুবাদে ঘনঘন ওঠাবসা হয়ে ওঠে আমাদের। আমরা যখন সাহিত্যের নানা ডালপালা নিয়ে আলাপ করতাম তখন আমি ও আবুল কালাম বেশিরভাগ সময় কবি মুসা আল হাফিজের চিন্তাগুলো তুলে ধরতাম। এতেকরে তিনি মুসা আল হাফিজ পাঠে নিমগ্ন হন।

আশরাফ মাহদী ভাই কবি মুসা আল হাফিজের “প্রাচ্যবিদদের দাঁতের দাগ” বইটি পড়া শেষ করে ভাবলেন মুসা সাহেবকে লালবাগে এনে একটা ফিকরী মজলিস করতে চান! সহপাঠীদের সাথে এটা শেয়ার করলে আবুল কালাম বললেন মুসা সাহেবকে ফিকরী দারসে আনতে হলে ‘হাতিমী’ ভাইকে মাধ্যমে লাগবে! আমি বিকেলে কেল্লামোড় গেলে এটা জানতে পারি। তখন মাহদী ভাইকে বললাম দ্বীন ও মিল্লাতের কল্যাণ হয় এমন প্রোগ্রামে যতোদূরই হোক মুসা সাহেব আসবেন! তবে অন্যকোনো শিরোনামে হলে বা সিম্পোজিয়ামের মতো কিছু একটা আয়োজন করলে খুব ভালো হয়। ইতোমধ্যে আমার, আবুল কালাম এবং আশরাফ মাহদী ভাইয়ের আলাপ হয় মুসা সাহেবের সাথে। অতঃপর পরামর্শক্রমে লালবাগ কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ইস্তেশরাক বিষয়ক বিশেষ দারস বা “মুহাযারা ফিল ইস্তেশরাক” এর আয়োজন করা হয়।

এভাবেই পরিচয়, সম্পর্ক, ঘনিষ্টতা ও বন্ধুত্ব। মাওলানা আশরাফ মাহদী শুধু মুফতি আমিনী রাহ. এর দৌহিত্র নয়; বরং তাঁর নীতি আদর্শের এক বলিষ্ঠ উত্তরাধিকারীও। কী লিখনী, কী বক্তৃতা, কী শিক্ষকতা, কী অধ্যয়ন, কী সাহসী, কী অমায়িক ব্যবহার, কী ছাত্র রাজনীতি সবখানেই আমরা প্রিয় আশরাফ মাহদী ভাইকে অনন্য দেখেছি। আশরাফ মাহদী বেশ কয়েকটি ভাষায় পারঙ্গম। তিনি আরবী, ইংরেজি, উর্দু, হিন্দি, মিশরী ও বাংলা ভাষায় সমানতালে কথা বলতে পারেন। আমার দেখা শ্রেষ্ঠ আপোষহীন এক তারুণ্যের নাম আশরাফ মাহদী। আশরাফ মাহদী সময়ের অন্ধকার ভেদকরা এক দীপ্ত মশাল। সত্যবাদী এবং সত্যভাষী এক নিউ আইডল। আশরাফ মাহদী হার না মানা এক অজেয় পৃথিবী। দুবাই কেন? দুনিয়ার কোথাও তাঁকে কোনো মিথ্যা নাটক দিয়ে আটকিয়ে রাখা যাবে না, ইনশাআল্লাহ্।

রাত যতো গভীর হয় সকাল ততো ঘনিয়ে আসে। দালালচক্র যতোই চক্রান্ত করুক, বেলা শেষে তারা মুনাফিক! মনে রাখবেন- কাশেমের ছেলে উসমানরা মিথ্যার যতো নাটক সাজাক; মিথ্যা দূরীভূত, সত্য সমাগত। মীরজাফররা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়েই নিক্ষিপ্ত হয় আর সত্যবাদী আল্লাহর সৈনিক আশরাফ মাহদীরা জিইয়ে থাকে যুগযুগান্তরে। আশরাফ মাহদী মুনাফিকদের চক্ষুশূল হবেন বুঝতে পেরেই কয়েক বছর আগে দালাল গোষ্ঠীর কবল থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন! আকাবীর উলামা মশায়েখের কাফেলায় “ব্যক্তিগঠন ইসলামী শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে” নিজের নাম লিখিয়েছিলেন। প্রিয় ভাই নিরাপদ থাকুন, মহান আল্লাহ তাঁকে ভালোবাসুন, হেফাজতে রাখুন। পরিশেষে বলি, আশরাফ মাহদীকে নিয়ে দালালদের কোনো কুচিন্তা এদেশের ছাত্র, তরুণ ও যুবসমাজ বাস্তবায়ন হতে দেবে না, ইনশাআল্লাহ। উস্তাদ কবি মুসা আল হাফিজ যথার্থই বলেছেন— সমুদ্রে যে বিছানা পেতেছে শিশিরে তার কীসের ভয়!

লেখক:শাহিদ হাতিমী