শেখ হাসিনার দিকে গোটা পৃথিবী তাকিয়ে আছে: খালিদ মাহমুদ

সম্পাদনা শাব্বির আহমদ সম্পাদনা শাব্বির আহমদ

এডিটর টাইমস রিপোর্ট টোয়েন্টিফোর

প্রকাশিত: 10:33 PM, July 30, 2020

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টির দিকে গোটা পৃথিবী তাকিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর জেলা স্কুল অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট ও রংপুর প্রেসক্লাবের আয়োজনে রংপুর বিভাগের সাংবাদিকদের সরকারি আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিচরণ করছেন।’ সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা কোন দিকে তাকাচ্ছে, আমেরিকা-রাশিয়া, ভারত-পাকিস্তানসহ চীন ও অন্যান্য দেশ সেটা লক্ষ্য করছে।

সব পরাশক্তি শেখ হাসিনার দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে আছে। এ রকম একজন নেতৃত্ব আমরা পেয়েছি, সেটা বাংলাদেশের জনগণের সত্যিই সৌভাগ্য।

করোনা সময়ে শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্ব প্রসঙ্গে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনা আছেন বলেই আজকে বাংলাদেশের জনগণ নিরাপদ। আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছি।

তিনি বলেন, করোনার এ সময়ে সমগ্র পৃথিবী যখন একটা অমানিশার অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে, শেখ হাসিনা সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করছেন। জাস্টিন ট্রুডোর (কানাডার প্রধানমন্ত্রী) চোখের পানি আমরা দেখেছি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করছেন। স্বাস্থ্যখাত নিয়ে যারা গর্ব করে সেই ইতালির প্রধানমন্ত্রী আকাশের দিকে তাকিয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছে। কিন্তু শেখ হাসিনা একদিনের জন্য, এক মুহূর্তের জন্যও সাহস হারাননি। তিনি লড়ে যাচ্ছেন সীমিত সম্পদ নিয়ে। বাংলাদেশের জনগণকে তিনি লড়াই করতে শিখিয়েছেন।

খালিদ বলেন, করোনাকালে এমন নেতৃত্ব না পেতাম, তাহলে কী হত। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে দুই লাখ মানুষ মারা গেছে। পশু-প্রাণি এবং মানুষকে একসঙ্গে দাফন করতে হয়েছে। এ রকম অবস্থা বাংলাদেশে হয়েছিল। তখন কে রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল আপনারা জানেন।

সরকারের সমালোচকদের উদ্দেশ্যে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাওয়া ভবন তৈরি করে যারা কোটি কোটি টাকা পাচার করেছে; কই হাওয়া ভবন তো পাঁচ বছরে বন্ধ করতে পারেননি। এ মিঠু (ঠিকাদার) একদিনে তৈরি হয়নি। হাওয়া ভবনের পথ পরিক্রমায় মিঠু তৈরি হয়েছে।

শেখ হাসিনা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছি। বঙ্গবন্ধু হত্যার রায় বাস্তবায়ন করেছি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। দেশে সাংবিধানিক ধারা তৈরি হয়েছে। জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ করতে সমর্থ হয়েছি। দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নেয়া হয়েছে। সে যে দলেরই হোক না কেন! দল-মত নির্বিশেষে দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এটাই শেখ হাসিনার বাংলাদেশ।

রিজেন্টের প্রতারক সাহেদ প্রসঙ্গে খালিদ মাহমুদ বলেন, যারা অপরাধী, কোন অপরাধীকে আমরা কিন্তু ক্ষমা করছি না। রাষ্ট্রের মন্ত্রী, গণমাধ্যমের বন্ধুদের সকলের সঙ্গে ছবি তুলে তিনি নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছিলেন; কিন্তু রাষ্ট্রের আইনের কাছে তিনি গুরুত্বহীন হয়ে গেছেন। এটাই হচ্ছে শেখ হাসিনার শাসন। আজকে আমাদের দলেরও অনেক নেতা-কর্মীই অপরাধ করার কারণে জেলখানায় আছেন। আইনের আওতায় চলে এসেছেন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের অগ্রগতি তুলে ধরে খালিদ বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল হয়েছে, উন্নত দেশের টার্গেট নিয়েছি। তিনি শত বছরের পরিকল্পনা দিয়েছেন। তাবত দুনিয়ার কোন সরকার প্রধান নাই যে, ১০০ বছরের টার্গেট নির্ধারণ করতে পারে। এটা শেখ হাসিনা করেছে। শেখ হাসিনা অঙ্গীকারাবদ্ধ মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করার জন্য। তিনি বলেন, এ মুজিববর্ষে নিজেদের কর্ম দিয়ে জাতির পিতাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩৮ বছরের নেতৃত্বে সব প্রতিকূল অবস্থায় গণমাধ্যম তার সঙ্গে ছিল বলে জানান নৌ প্রতিমন্ত্রী।

রংপুর বিভাগের ৬ জেলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনানুসারে দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন, করোনাকালে চাকরি হারানো ও বেতন না পাওয়া এই তিন অসুবিধায় নিপতিত সাংবাদিকদের এককালীন ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে রংপুরের ৪৮, দিনাজপুরের ৫৪, পঞ্চগড়ের ৩০, কুড়িগ্রামের ৩২, লালমনিরহাটের ১৮ এবং ঠাকুরগাঁও জেলার ২৯ জন সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়।