‘মুরগি বিল্লাল’ থেকে কোটিপতি, অতঃপর ধরা শ্রমিকলীগ নেতা

প্রকাশিত: 5:33 PM, August 1, 2020

শ্রমিকলীগের অর্থ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন গ্রেফতারের পরে শহরে মিষ্টি বিতরণ করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকালে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে দুর্নীতিবাজদের গ্রেফতার করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জেলা পুলিশকে ধন্যবাদ জানায় তারা।

অর্থপাচার মামলায় ফরিদপুরে বিল্লাল হোসেন (৫৪) নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত বিল্লাল ফরিদপুর সদরের এমপি খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুর শহরতলীর হাড়োকান্দি এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল।

ফরিদপুর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুনীল কর্মকার বলেন, ঢাকার কাফরুল থানায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দায়ের করা অর্থপাচার মামলায় সিআইডি পুলিশের চাহিদা অনুযায়ী গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিল্লালকে।

বিল্লাল ফরিদপুর শহরতলীর হাড়োকান্দি এলাকার মৃত শেখ ইছামুদ্দিনের ছেলে। তিনি জেলা শ্রমিক লীগের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন।

জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদ হোসেন মোল্লা জানান, ফরিদপুর সদরের এমপি খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাই মোহতেশাম হোসেন বাবরের (সাবেক ফরিদপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান, বর্তমানে পালাতক) স্বঘোষিত কমিটির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন বিল্লাল, এতে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন ছিলো না। এই বিল্লাল এক সময় বাবরের মুরগীর ফার্মের ম্যানেজার ছিল। আজ সে কোটি টাকার মালিক হয়েছে।

বিল্লাল হোসেন প্রথমে খন্দকার মোহতেশামের মুরগির খামারে চাকরি নেন। এ জন্য তিনি ‘মুরগি বিল্লাল’ নামেও পরিচিত। খন্দকার মোহতেশামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে বিল্লাল বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে রাতারাতি ধন্যাঢ্য ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। মোহতেশামের সুপারিশে তিনি জেলা শ্রমিক লীগের কোষাধ্যক্ষ হন। একটি আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকার মালিক তথা প্রকাশকও হন। সেই সুবাদে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সদস্য এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বিল্লাল।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ওসি মোরশেদ আলম বলেন, ডিবি পুলিশ শুক্রবার (৩১জুলাই) বিকেলে বেল্লালকে কোতয়ালী থানায় সোপর্দ করেছে। আজ শনিবার (১আগষ্ট)তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, শহর আ.লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের বহিষ্কৃত সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের বিরুদ্ধে দুই হাজার কোটি টাকার মানি লন্ডারিং এর অভিযোগে মামলা করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ বাদী হয়ে গত ২৬ জুন ঢাকার কাফরুল থানায় মানি লন্ডারিং এর অভিযোগ এনে এ মামলাটি দায়ের করেন।

এ মানি লন্ডারিং মামলায় ওই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবৈধ উপায়ে উপার্জন ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়। ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন সংশোধনী ২০১৫ এর ৪(২) ধারায় এ মামলাটি দায়ের করা হয়। গত ৭ জুন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সুবল সাহার বাড়িতে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার হন রুবেল ও বরকত। পরে তাদের মানিলন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রথমে দুই দিন পরে আরও তিন দিনের রিমান্ড শুনানী শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় দুই ভাইয়ের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নথিভুক্ত করেন।