বাবরি মসজিদ ইস্যুতে ঢাকায় ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ

প্রকাশিত: 7:57 PM, August 5, 2020

এবার ভারতের বাবরী মসজিদ ইস্যুতে ঢাকায় ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ সমাবেশ।ইসলামী আন্দোলন বাংলদেশ-এর মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেছেন, বাবরী মসজিদস্থলে রাম মন্দির নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন মুসলমানদের হৃদয়ে র’ক্তক্ষরণ। মোদী সরকার গায়ের জোরে মসজিদের জায়গা

মন্দির নির্মাণ করে সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। ধর্মনিরপেক্ষতার ধ্বজাধারী মোদি মুসলমানদের মসজিদস্থলে রাম মন্দির নির্মাণ করে ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে কু’ঠারাঘাত করেছে। এতে করে মোদি নিজের পতনকে ত্বরান্বিত করেছে। ভারত ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হবে। বাবরী মসজিদ ছিল, আছে এবং থাকবে ইনশাআল্লাহ্।তিনি বলেন, অযোধ্যায় ৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাবরী মসজিদ ছিল এবং ১৯৯২ সালে অপরাধী জনতা মসজিদটিকে শহিদ করেছিল।

তিনি বলেন, বাবরী মসজিদ পুন:নির্মাণে বিশ্বের মুসলিম জনতা প্রয়োজনে সম্মিলিত প্র’তিরোধ গড়ে তুলবে।
আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব চত্তরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদস্থলে রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ পূর্ব সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের সহকারি মহাসচিব আমিনুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন মাওলানা আহমদ আবদুল কা’ইয়ূম, যুবনেতা কেএম আতিকুর রহমান, উত্তর সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন, দক্ষিণ সেক্রেটারী মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, শাহাদাত হোসেন, শ্রমিকনেতা হাফেজ মাওলানা ছিদ্দিকুর রহমান, নূরুল ইসলাম নাঈম, ডা. শহিদুল ইসলাম, অধ্যাপক ফ’জলুল হক মৃধা, সৈয়দ ওমর ফারুক প্রমুখ।

মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর কী বাবরী মসজিদ ধ্বংস করা হয়নি? ইতিহাস স্মরণ রাখবে যে, ১৯৪৯ সালের ২২/২৩ ডিসেম্বর মধ্যরাতে কী হয়েছিল যখন মসজিদের মধ্যে প্রতিমা রেখে দেওয়া হয়েছিল। অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভূমিপুজা ও ভিত্তিপ্রস্তর দ্বারা প্রমাণিত হয়. এটা মন্দিরের জায়গা নয় বা এখানে পূর্বে মন্দির ছিল না। হি’ন্দুরীতি অনুযায়ী ভূমিপূজা একবারই হয়। মোদি মাত্রারিক্ত গো-মুত্র পান করে পাগল হয়ে গেছে। আল্লাহর দুশমনের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ হতে বাধ্য। তিনি বলেন, পীর সাহেব চরমোনাই নির্দেশ করলে ঈমানপ্রিয় জনতা বাবরী মসজিদ র’ক্ষায় ঝাঁ’পিয়ে পড়বে।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, কসাই মোদি মুসলমানদের ধর্মীয় উপাসনালয়স্থলে রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর করেনি বরং তাদের পতনের ভিত্তিস্থাপন করেছে। রামমন্দির একসময় আয়া সোফিয়ায় রূপ নিবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, মসজিদস্থলে রামমন্দির স্থাপনের প্রতিবাদ করে মুসলমানদের পক্ষে অবস্থান নিন। অন্যথায় হিন্দুপ্রেমিক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে

থাকবেন। তিনি লেবাননে বিস্ফোরণ ঘটনায় শতাধিক মুসলিম নিহত ও হাজার হাজার আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে রহস্য উদঘাটন দাবি করেন। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল জাতীয় ক্লাব, কদম ফোয়ারা হয়ে পল্টন মোড় এসে সমাপ্ত হয়।