যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে মহান বিজয় দিবস : জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

আহসান শেখ : আজ ১৬ই ডিসেম্বর। বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে অসহযোগ আন্দোলন, ২৫শে মার্চে পাক হানাদার বাহিনীর গণহত্যা অত্যাচার নির্যাতন এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে বাংলাদেশের জনগণ,১৯৭১ এর ২৬শে মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন যেখান থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ বা বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হয়, তাজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে মেহেরপুর জেলায় মুজিবনগরের প্রবাসী সরকার এ যুদ্ধে ভূমিকা রাখে । ১৯৭১ এর ২৬শে মার্চ থেকে দীর্ঘ ৯ মাস পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধ সংগ্রাম জনযুদ্ধ শেষে ৩০ লক্ষ শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৯৭১ এর ১৬ই ডিসেম্বর ঢাকায় পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ হয় ও মুক্তিবাহিনী যৌথবাহিনীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের মহান বিজয় লাভ করে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ নামে নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হয় । তখন থেকেই এই ১৬ই ডিসেম্বরকে বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। বিগত বছরগুলোর মতো যথাযোগ্য মর্যাদায় এবারও বাংলাদেশের ৫৩ তম মহান বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

এবার জুলাই–আগস্টের কোটা আন্দোলন থেকে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান বিপ্লবে স্বৈরাচারী হাসিনার সরকারের পতন, জনতার বিজয় ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের চার মাস পরে এবার ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে। বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মুহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা পৃথক পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক অরাজনৈতিক দল সংগঠন প্রতিষ্ঠান যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস পালন করছে। সারা দেশে বিজয় উপলক্ষে উড়ছে লাল সবুজ জাতীয় পতাকা। বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা সহ বিভাগীয় শহরগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও ভবনগুলোতে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে মধ্যরাতে রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে কোথাও কোথাও আতশবাজি পটকা ফোটাতেও দেখা গিয়েছে। বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে মধ্যরাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় নাগরিক কমিটি মোমবাতি প্রজ্বলন ও দোয়া মোনাজাত আয়োজন করে। বিজয় দিবসের দিন ভোরে ঢাকার পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় (তেজগাঁও) সেনাবাহিনীর ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয় মহান বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা।

বিজয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মুহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়তে এবং মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য বাস্তবায়ন ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও বেশি অবদান রাখার আহ্বান জানান।অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাণীতে বলেন, বিজয় দিবস কেবল আমাদের গর্বের উৎস নয়, এটি আমাদের শপথের দিনও। শপথ আমাদের একতাবদ্ধ থাকার, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করার।ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার একটি উন্নত, সমৃদ্ধ এবং সুশাসিত বাংলাদেশ গঠনে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করছে।

বিজয় দিবসের দিন তথা আজ ভোরে সূর্যোদয়ের পরে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি প্রথমে স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করে মূল বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানান প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস হোর্তা, অন্য কয়েকজন উপদেষ্টা ও তিন বাহিনীর প্রধান।পুষ্পস্তবক অর্পণের পর রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা।

এ সময় বা সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল তাদের রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। বিউগলে বেজে উঠে করুণ সুর। এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে রাখা দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টাগণ,সেনা নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানগণ,সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, পুলিশের নতুন আইজিপি এবং বাংলাদেশে বসবাসরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকগণ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে জাতীয় স্মৃতিসৌধ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়,জাতীয় স্মৃতিসৌধে বিএনপি, জাতীয় পার্টি (জাপা),গণ অধিকার পরিষদ,১২ দলীয় জোট, গণতন্ত্র মঞ্চ সহ রাজনৈতিক দলগুলো, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি, জাতীয় নাগরিক কমিটি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক অরাজনৈতিক দল সংগঠন প্রতিষ্ঠান ১৯৭১ ও ২০২৪ এর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। স্মৃতিসৌধে সারাদিন জনসমাগম দেখা যায়।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img