গত ২১ ডিসেম্বর শনিবার রাজধানী ঢাকার আশিয়ান সিটি সিভিল অ্যাভিয়েশনে মিলাদ কিয়াম ও আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে বৃহত্তর অরাজনৈতিক সুন্নী ইসলামী সংগঠন দাওয়াতে ইসলামীর বাংলাদেশ শাখার আয়োজনে তিন দিনের বার্ষিক ‘সুন্নতে ভরা’ ইজতেমা বা সুন্নী ইজতেমা শেষ হয়েছে । এটি দাওয়াতে ইসলামীর বাংলাদেশে ৮ম বার্ষিক ইজতিমা ছিল। জুলাই–আগস্টের ছাত্র জনতার বিপ্লব অভ্যুত্থান ও দেশের ক্ষমতার পালাবদলের পরে এটি তাদের প্রথম ইজতিমা ছিল। এ ইজতিমায় সারা দেশ থেকে হাজার হাজার লাখো শান্তিপ্রিয় ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা আশিয়ান সিটি মাঠে উপস্থিত হন।
গত ১৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় কুরআন তিলাওয়াত, হামদ নাত ও উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে তিন দিনের ইজতেমা শুরু হয়। ইজতিমায় ৫ ওয়াক্ত নামাজে লাখো মুসল্লীদের উপস্থিতি দেখা যায়। দাওয়াতে ইসলামীর এই ইজতিমা তাদের মুখপাত্র মাদানী চ্যানেল বাংলায় লাইভ সম্প্রচারিত হয়। ইজতিমার ২য় দিন ২০ ডিসেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের জামাতে লক্ষ লক্ষ মুসল্লিরা অংশ নেন।
এই তিন দিনের ইজতেমায় দাওয়াতে ইসলামীর আলেম উলামা মোবাল্লিগরা বিষয়ভিত্তিক বয়ান করেন। পবিত্র কোরআন, সুন্নাহ, ইজমা-কিয়াসের ভিত্তিতে ইমান-আক্বিদা ও আমল সম্পর্কে দিনরাত বয়ান করেন তারা । ইসলামের সৌন্দর্য, কীভাবে নামাজ পড়তে হয়, ইসলামের ফরজ, সুন্নাত, নফল এবাদত কীভাবে করতে হয়; দালিলিক প্রমাণ দিয়ে হাতে-কলমে মুসল্লিদের শিখিয়ে দেওয়া হয়। ইসলাম শান্তির ধর্ম, শান্তির পথে ইসলামের দিকে মানুষকে আহ্বান করা,আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার,জিহাদের সঠিক ব্যাখা,নামাজের ফজিলত, সময়ের গুরুত্ব, সন্তানের সুশিক্ষা ও পরিবারের সংশোধন – এ বিষয়গুলো জনসাধারণকে সচেতন করে তুলতে পবিত্র কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক সারগর্ভ আলোচনা হয় । গত ২১ ডিসেম্বর ইজতেমার শেষ দিন সকাল দশটার পরে আখেরী বয়ান হয় এবং দুপুরে যোহরের নামাজের পরে মিলাদ ও আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে এই ইজতেমা সমাপ্ত হয়। দাওয়াতে ইসলামীর বাংলাদেশ শাখার সভাপতি মাওলানা আবদুল মোবিন আত্তারি মোনাজাত পরিচালনা করেন। এ সময় ‘আমিন আমিন ধ্বনী’তে ইজতেমা ময়দানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। ইজতেমা থেকে ২০২৫ এর আগামী ১, ২ ও ৩ মে চট্টগ্রামে দাওয়াতে ইসলামীর ইজতেমা ও আগামী বছরের ১৮ থেকে ২০ ডিসেম্বর ঢাকায় আন্তর্জাতিক সুন্নতে ভরা ইজতেমা আয়োজনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
দাওয়াতে ইসলামীর গণমাধ্যম শাখার দায়িত্বশীল মহাম্মদ জহিরুল ইসলাম আত্তারি সাংবাদিকদের বলেন, ইজতেমা থেকে মুসল্লিরা ৩ দিন, ১২ দিন, ৩০ দিন ও ৬৩ দিনের জন্য ইসলামের দাওয়াত নিয়ে বের হবে। দাওয়াতে ইসলামী বাংলাদেশের (নিগরান) সভাপতি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘‘আল্লাহর রহমতে সুন্দরভাবে তিন দিনের সুন্নাতে ভরা ইজতেমা শেষ হয়েছে। ইজতেমা আয়োজনে সহযোগিতার জন্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, পুলিশ প্রশাসন, পীর মাশায়েখ ও আশেকে রাসূলদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ইজতেমায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বয়ান হয়েছে। বাস্তবজীবনে একে কাজে লাগানো গেলে তাহলেই স্বার্থকতা। আসুন প্রত্যেক মানুষের কাছে আমরা ইসলামের নেকীর দাওয়াত পৌঁছে দেই।’’


