সাকরাইনের নামে অপসংস্কৃতি শব্দদূষণ বন্ধের দাবীতে পুরান ঢাকায় ২০ টি মসজিদের ইমাম মুসল্লীদের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত

আহসান শেখ : গত কয়েকদশক ধরেই পুরান ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় এবং কেরানীগঞ্জ ও জুরাইনের অনেক এলাকায় প্রতিবছর ১৪/১৫ জানুয়ারি পৌষ সংক্রান্তি বা সাকরাইন উৎসব পালিত হতে দেখা যায় যেখানে ঘুড়ি উড়ানো হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে গত কয়েকবছর ধরেই সাকরাইনের নামে প্রচুর শব্দদূষণ বেহায়াপনা অসামাজিক কর্মকাণ্ড দেখা যায় পুরান ঢাকার অধিকাংশ এলাকাগুলোতে। গত কয়েকবছরে ঘুড়ি উৎসবের নামে উল্টো বাড়িঘর বিল্ডিংগুলোর ছাঁদ দখল করে উচ্চশব্দে ডেক্সেট ডিজে বাজিয়ে শব্দদূষণ বেহায়াপনা ও সন্ধ্যায় আতশবাজি পটকা ফোটানো,রাতে অযথা ডিজেবক্স বাজানো,বহিরাগতদের উৎপাত ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড এর কারণে জনগণ ব্যাপক বিরক্ত ও বিব্রত হয়েছিল ।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

 

সাকরাইনের নামে শব্দদূষণ বেহায়াপনা বন্ধের দাবীতে সম্প্রতি গত ১২ জানুয়ারি রবিবার বিকালে ও সন্ধ্যায় ঢাকার ফরিদাবাদ জামিয়া ইমদাদুল মাদ্রাসা ও গেন্ডারিয়ার মাদ্রাসাসমূহের ছাত্র শিক্ষক আলেম উলামা এবং অসামাজিক ও অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে পথসভা ও বিরাট বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়৷ সেখানে পুরান ঢাকার সূত্রাপুর গেন্ডারিয়া ফরিদাবাদ ওয়ারী ও নারিন্দার অধিকাংশ মসজিদগুলোর ইমাম খতিবগণ বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেন৷ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা ইমদাদুল ইসলাম, মুফতী ইমাদুদ্দীন, মুফতী মুজিবুর রহমান, মাওলানা যুবায়ের আহমাদ, মাওলানা মুজিবুর রহমান, মুফতী ইকবাল হাসান, মাওলানা মোল্লা আব্দুল মুমিন প্রমুখ। বিক্ষোভ মিছিলটি বিকেলে আসরের নামাজের পরে পোস্তগোলা থেকে শুরু হয়েছিল। মিছিলটি গেন্ডারিয়া, সুত্রাপুর, লক্ষ্মীবাজার ও রায় সাহেব বাজার প্রদক্ষিণ করে সন্ধ্যার পরে কাঠের পুল চৌরাস্তায় এক সমাবেশে মিলিত হয়।

 

বক্তারা বলেন, পৌষ মাসের শেষ তারিখে ঘুড়ি ওড়ানোর এ সংস্কৃতিটি প্রথমে শুধু ঘুড়ি ওড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন এর সাথে সংযুক্ত হয়েছে আতশবাজি, ডিজে পার্টি, তরুণ-তরুণী ও যুবক-যুবতীদের অবাধ মেলামেশা ও অশালীন কার্যকলাপ, নেশায় মত্ত হয়ে রাতভর নাচ-গানসহ বহু অসামাজিক বিষয়। মাইক ও স্পিকারে উঁচু আওয়াজের গানবাদ্য ও আতশবাজির বিকট শব্দে কান ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়। হৃদপি-ে কম্পন শুরু হয়ে যায়। শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পড়াশোনা করা যায় না। ঠিকমতো নামায আদায় করা যায় না। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা বেশি কষ্ট পায়। তাছাড়া এটাকে কেন্দ্র করে নতুন ঢাকার অনেক অপরিচিত উচ্ছৃঙ্খল ছেলে-মেয়েদের আনোগোনা ও মাদকের ছাড়াছড়িতে এলাকাবাসীর নিরাপত্তাও বিঘিœত হয়। অধিকন্তু ঘুড়ি ধরতে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। ঐ সময় সাধারণ মানুষ যেন জিম্মি হয়ে যায়। এহেন পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে সকলকে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান বক্তারা।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img