আহসান শেখ : বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অনেক দেশে দেশে গত ২৮ মার্চ তথা রমজানের শেষ শুক্রবার আন্তর্জাতিক আল কুদস দিবস পালিত হয়েছে। প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ শুক্রবারে আল কুদস দিবস পালিত হয়ে থাকে৷ এবারও আলোচনা সভা সেমিনার মিছিল সমাবেশের মাধ্যমে আল কুদস দিবস পালিত হয়েছে। ১৯৭৯ সাল থেকে এ দিবস পালন শুরু হয়।

রাজধানী ঢাকায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আল কুদস কমিটির উদ্যোগে আল কুদস দিবসের দিন ফিলিস্তিনে দখলদার ইসরায়েলীদের আগ্রাসন বন্ধ করার দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল হয়৷ খুলনার টুটপাড়া মোড়ে জাফরিয়া রিডার্স সোসাইটি, খুলনা-এর আয়োজনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয় যেখানে সুন্নি মুসলিম ও শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলিমরা অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে বক্তারা ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং দখলদার ইসরায়েলের বর্বর হামলার নিন্দা জানান। বক্তারা বলেন, মুসলিম উম্মাহর জন্য ফিলিস্তিন শুধু একটি ভূখণ্ড নয়; বরং এটি তাদের আকিদা ও ঈমানের একটি অংশ। বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ ও গবেষক মাওলানা সৈয়দ ইব্রাহিম খলীল রাজাভী তার বক্তব্যে বলেন:
“ফিলিস্তিনের নিপীড়িত মুসলমানদের রক্ষা করা আমাদের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। এটি শুধু আরবদের নয়, বরং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর দায়িত্ব। আয়াতুল্লাহ খোমেনী বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা কোনো জাতিগত বা রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি ইসলামের পবিত্র আমানত। আমরা সকল মুসলমানের উচিত, একতাবদ্ধ হয়ে ফিলিস্তিনের জন্য আওয়াজ তোলা এবং জালিমদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।”তিনি আরও বলেন, “যারা ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেবে, ইতিহাস তাদের সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করবে।” যশোর ও বগুড়াতেও শিয়া সংগঠনগুলো আল কুদস দিবস উপলক্ষে মিছিল সমাবেশ করে।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীর আনওয়ানে গালীবে আল কুদস দিবসের দিন দুপুর ২ টার পরে আন্তর্জাতিক আল কুদস দিবস সম্মেলন বা ইয়াউমে কুদস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয় যেখানে ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত প্রধান অতিথি ছিলেন । জম্মু কাশ্মীরে যথাযোগ্য মর্যাদায় আল কুদস দিবস পালিত হয়।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ, লাহোর ও করাচীতে আল কুদস দিবসের দিন বিরাট সমাবেশ ও র্যালী মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সেদেশের জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী তেহরিক, মজলিসে ওয়াহদাতুল মুসলিমীন ও ইমামীয়া স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন বিভিন্ন সভা সমাবেশ আয়োজন করে। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয় ।

আল কুদস দিবসের সবচেয়ে বড় আয়োজন ছিল ইরান ও ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে । আল কুদস দিবস উপলক্ষে ইরানে সরকারি ছুটি ছিল। ইরানের বিভিন্ন শহরে লাখো লাখো মানুষ ইরান ও ফিলিস্তিনের পতাকা,লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুথিদের পতাকা সহ আল কুদস দিবসে র্যালী করে । আন্তর্জাতিক কুদস দিবসে অংশগ্রহণের জন্য ইরানি জনগণের বার্তা সবসময় ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে সংহতি এবং তাদের অধিকারের প্রতি সমর্থনের উপর জোর দেয়।

ইয়েমেনের রাজধানী সান’আ যা এখন হুথিদের ক্ষমতায় আছে সেখানে আল কুদস দিবস উপলক্ষে বিশাল সমাবেশ হয়৷


