গাজীপুরে ইমাম রইসের কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় ১৭ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার নেই কেউ

গাজীপুর জেলা কারাগারে গত ২৮ এপ্রিল ভোরের আগে সুন্নি সুফিপন্থী ইমাম রইস উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনার ছয় দিন পর হত্যা মামলা করেছেন তাঁর স্ত্রী মাজেদা আক্তার। গত শুক্রবার পূবাইল থানায় করা এ মামলায় তিনি ১৭ জনের নাম উল্লেখ করেন। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ জনকে। পূবাইল থানার ওসি আমিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

 

কুমিল্লার বাসিন্দা রইস উদ্দিন গাজীপুর মহানগরের তাল গাছিয়ারটেক আখলাদুল জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব ছিলেন। পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে অপবাদ দিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। সরেজমিনে জানা যায় গত ২৬ এপ্রিল ঢাকায় প্রেসক্লাবে আধিপত্যবাদ বিরোধী মুসলিম ঐক্য মঞ্চের সমাবেশ শেষে ইমাম মাওলানা রইস গাজীপুরে তার বাড়িতে ফেরার একদিন পরে গত ২৭ এপ্রিল তৌহিদুল সাব্বির সহ মাওলানা রইসের বিরোধী লোকজন বলাৎকারের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মব সৃষ্টি করে নির্মম নির্যাতন চালায় মাওলানা রইসের উপর । তাকে মারার সময় জোরপূর্বক তার মোবাইল আনলক করে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ দেয়া হয়। যেখানে দেখা যায় তাকে মেরে অর্ধমৃত করে রেখেছেন এবং পাশে থেকে আরেকজন বলতেছে “তর বাড়িতে গিয়া বয়কট কর”। উক্ত লাইভে তার এক ভাই কমেন্ট করে বলেছেন যে “ও(রইস) আমার ভাই হয়”, সেখানে “তৌহিদুল ইসলাম সাব্বির” উত্তর দিয়েছে যে “তোমার ভাই বলাৎকার করেছে”। মাওলানা রইস কে আহত অবস্থায় পুলিশের কাছে দেয়ার পর, পুলিশ কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা না করায় সেখানেই কারা হেফাজতে বিনা চিকিৎসায় তিনি মারা যান। রইসের উপর নির্যাতনকারী তৌহিদুল সাব্বিরের আইডিতে গিয়ে দেখা যায় সে একটি নির্দিষ্ট ঘরানার অনুসারী। সে নিয়মিত মাদখালী সালাফি আলেম মুজাফফর বিন মহসিন, আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ ও তার ছেলের ভিডিও প্রচার করে।

 

১৭ জন আসামীর বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহারে মাজেদা আক্তার উল্লেখ করেছেন, তাঁর স্বামী জুমাসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে মসজিদের মুসল্লিদের উদ্দেশে কোরআন ও সুন্নাহের আলোকে ধর্মীয় বয়ান দিতেন। হায়দারাবাদ এলাকার এক পক্ষ বয়ান পছন্দ করত এবং অন্য পক্ষ প্রতিনিয়ত হিংসা-বিদ্বেষ করত। বিরোধী পক্ষ রইস উদ্দিনকে মসজিদ থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করত। পরে বিবাদীদের মধ্যে একজনের সন্তানকে ধর্ষণের নাটক সাজিয়ে গাছে বেঁধে গত রোববার সকালে গাছে বেঁধে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে মাথার চুল কেটে জুতার মালা গলায় দেয় এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় তারা। বিষয়টি পরিবারকে না জানিয়ে চার ঘণ্টা পর পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে রইস উদ্দিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গাজীপুর আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে ওইদিন রাতেই তিনি মারা যান।

 

শনিবার ওসি আমিরুল ইসলাম বলেন, রইস উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা মামলা নিয়েছি। অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মাওলানা রইস গাজীপুরের যে মসজিদে ইমাম ও খতিবের দায়িত্বে ছিলেন সেই মসজিদের কমিটি নিয়ে পূর্ব থেকে দ্বন্দ্ব ছিলো দুই কমিটির মধ্যে। বিরোধী পক্ষের লোকেরা তাকে সরানোর জন্য নানা ষড়যন্ত্র করেছিলো । পরবর্তীতে উপায় না পেয়ে ইমামকে সরিয়ে মসজিদটিকে বিরোধী পক্ষের লোকজন কর্তৃক দখল নেওয়ার পরিকল্পনা করে যার অংশ হিসেবে ইমাম রইসকে মেরে ফেলা হয় ৷

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img