আহসান শেখ : যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে গত ১৮ ও ১৯ মে (হিজরী ১৯ ও ২০ যিলক্বদ) রবি ও সোমবারে বাংলাদেশ সহ উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষী, আউলিয়ায়ে কিরাম, সুলতানে বাংলা, হযরত শাহজালাল মুজাররদে ইয়ামেনী রহঃ এর ওফাত বা মৃত্যু স্মরণে সিলেটে ৭০৬ তম বাৎসরিক উরস পালিত হয়েছে। হযরত শাহজালাল রহঃ এর দরগাহ বা মাজারে উরসের মূল কর্মসূচি পালিত হয় । বিগত বছরগুলোতে হযরত শাহজালাল রহঃ এর মাজারে উরস পালন নিয়ে মিশ্র পরিস্থিতি দেখা যেত একদিকে মাজারে চাদর বা গিলাফ চড়ানো, কুরআন তিলাওয়াত, ইবাদত বন্দেগী, ওয়াজ যিকির মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ও অপরদিকে কতিপয় লোকজনের গান বাজনা ব্যান্ডপার্টি নাচানাচি বেহায়াপনা মাদক ও নেশাজাত দ্রব্য সেবন ইত্যাদি দেখা যেত ।
কিন্তু এবার দরগাহের ভিতর কোন গান বাদ্য বাজনা বেহায়াপনা অশালীন কর্মকাণ্ড কুসংস্কার ছাড়াই ব্যতিক্রমভাবে ইসলামী বিধিবিধানের সীমারেখায় হযরত শাহজালাল (রহ.) এর ওরস হয়েছে। এবার আর মাজারের বিভিন্ন অংশে সামিয়ানা টানিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ভক্ত-অনুরাগীর ‘নিজস্ব আস্তানা’ নেই। শত শত ভক্ত অনুরাগী আসছেন, জিয়ারত করছেন, দোয়া দরুদ পাঠ করছেন, ঘুরছেন দেখছেন এবং ফিরেও যাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার অবস্থানও নিচ্ছেন কিছু সময়ের জন্য। মাজার প্রাঙ্গন ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য বছরের ওরসের তুলনায় জনসমাগম কিছুটা কম, তবে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন। কোনো অনৈসলামি কার্যকলাপ নেই। সন্ধ্যার পর থেকে চলছিল হামদ নাত কেরাত ইত্যাদি। মসজিদ এবং মহিলা ইবাদতখানায় বসে চলছে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত। পবিত্র এশার নামাজের পর থেকে শুরু হয় খতমে কোরআন। অন্তত ৩০ জন হাফেজ এই খতমে কোরআনে অংশ নিয়েছেন বলে মাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দেশ বিদেশের ভক্ত ও আউলিয়া প্রেমী মানুষজন এতে অংশ নেন নিজ নিজ উদ্যোগে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত -আশেকানরা আসেন শাহজালালের দরবারে। শুক্রবার রাত থেকেই ভক্তরা আসেন মাজারে প্রাঙ্গণে। দুই দিনব্যাপী ওরস মাহফিলে মাজারে গিলাফ ছড়ানো, জিকির আজকার, খতমে কোরআন, আখেরি মোনাজাত ও শিরণী বিতরণের মাধ্যমে শেষ হয়েছে এই বছরের ওরস। তবে কোনো ধরনের অসামাজিকতা, অশ্লীলতা, বেদাত ও শিরক না করতে সবার প্রতি তদারকি কমিটি ও প্রসাশন ছিল তৎপর।
রবিবার (১৮ মে) সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজারে গিলাফ ছড়ানোর মাধ্যমে শুরু হয় ৭০৬তম বার্ষিক ওরস। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে তেলাওয়াত, গজল, হামদ, নাত ইত্যাদি। ভক্ত অনুরাগীদের আনাগোনাও সময় গড়ানোর সাথে সাথে বাড়তে থাকে। এবছর ওরসের শিরনীতে জবাই করা হয় ভক্তদের দেয়া ৩৪টি গরু। ওরস উপলক্ষে হযরত শাহজালের মাজারে ছিল তিন স্তরের নিরাপত্তা। এছাড়াও সাদা পোশাকে সক্রিয় বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। মাজার কর্তৃপক্ষের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীও সদা তৎপর। এইবছর ওরসে শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে কোনো অঘটনের খবর পাওয়া যায়নি। সোমবার (১৯ মে) ভোরে ফজরের নামাজের পর আখেরি মোনাজাত এর মাধ্যমে শেষ হয় হযরত শাহজালাল (রহ.) এর ৭০৬তম বাৎসরিক ওরস মোবারক।


