যুক্তরাজ্যে এবার সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামানের সম্পত্তি জব্দ

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদের মালিকানাধীন সম্পত্তি জব্দ করেছে দেশটির জাতীয় অপরাধ সংস্থা (এনসিএ)। সাইফুজ্জামান চৌধুরী এসব সম্পদ বিক্রি করতে পারবেন না।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তদন্তকারী ইউনিট (আই-ইউনিট) এ তথ্য নিশ্চিতকরেছে।
বুধবার (১১ জুন) প্রকাশিত আল জাজিরার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতরাতে আই-ইউনিটকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এনসিএ-এর একজন মুখপাত্র জব্দকরণের আদেশ নিশ্চিত করেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘চলমান সিভিল তদন্তের অংশ হিসেবে এনসিএ সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বেশ কয়েকটি সম্পত্তি জব্দকরণের আদেশ পেয়েছে। ’

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ দলের অন্যতম সদস্য সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন সম্পদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে বাংলাদেশ। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আহমেদ শায়ান এফ রহমান ও তার চাচাতো ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রহমানের প্রায় ৯ কোটি পাউন্ডের সম্পত্তি জব্দ করে এনসিএ।

গত সরকারের ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদের নামে এ পর্যন্ত চার দেশে টাকা পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে। পাচার করা টাকায় তিনি বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২২৮টি, যুক্তরাষ্ট্রে ৭টি এবং যুক্তরাজ্যে ৩৩৬টি বাড়ি ও ফ্ল্যাটের সন্ধান মিলেছে। এগুলোর মূল্য ১ হাজার ২২০ কোটি টাকার বেশি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ১টি, সিঙ্গাপুরে ৩টি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪টি ব্যাংক হিসাব শনাক্ত করা হয়েছে। এগুলোয় জমা ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এসব সম্পদ উদ্ধারে সরকার থেকে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে যুক্তরাজ্য ইতিবাচক সাড়া দিল।

গত বছর আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ৫৬ বছর বয়সী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাজ্যে ৩৫০টিরও বেশি সম্পত্তি রয়েছে। তার এই বিপুল সম্পত্তির কতটুকু জব্দ করেছে এনসিএ তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। তবে আই-ইউনিট জানিয়েছে, লন্ডনের সেন্ট জনস উডে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর বিলাসবহুল বাড়িটি জব্দ হওয়া সম্পদের একটি। বাড়িটি ১৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার দিয়ে কিনেছিলেন সাইফুজ্জামান।

এই বাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তির বিষয়ে সাইফুজ্জামান আল জাজিরার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমি আসলে তার (শেখ হাসিনা) ছেলের মতো। তিনি জানেন যে, এখানে আমার একটি ব্যবসা আছে। ’

আই-ইউনিটের তদন্তে প্রকাশ, দেশের মুদ্রা আইন অনুসারে একজন নাগরিক বাংলাদেশ থেকে বাইরে কত টাকা নিতে পারেন তার বার্ষিকসীমা ১২ হাজার ডলার। কিন্তু এই সীমা পেরিয়ে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে সম্পত্তির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন সাইফুজ্জামান।

তদন্তে জানা গেছে, সাইফুজ্জামান লন্ডন, দুবাই এবং নিউইয়র্কে রিয়েল এস্টেটে ৫০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের ট্যাক্স রিটার্নে তার বিদেশি সম্পদের কোনো তথ্য নেই।

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের একটি প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন তিনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে শত শত নিরপরাধ নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যান এই সাবেক ভূমিমন্ত্রী।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img