ঐতিহাসিক গাদীরে খুম স্মরণে ঢাকার বিএমএ অডিটোরিয়ামে ইমাম আলী (রাঃ) আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

আহসান শেখ : ১৮ জিলহজ ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয় যেখানে ১০ ম হিজরী (৬৩২ খ্রিস্টাব্দ) তে মহানবী মুহাম্মদ সাঃ এর বিদায় হজ শেষে মক্কা থেকে মদিনায় ফেরার পথে গাদীরে খুম নামক স্থানে মহানবী সাঃ ও তার সাহাবী গণ উপস্থিত হন, সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পরে মহানবী সাঃ গাদীরে খুমের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ দেন যেখানে আলী রাঃ কে সমস্ত মুমিন বা ইমানদার ও মুত্তাকীদের মাওলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। একেই গাদীরে খুমের ঘটনা বলা হয়। গত ২১ জুন শনিবার ঐতিহাসিক গাদীরে খুম স্মরণে ঢাকার পল্টন তোপখানা রোডের বিএমএ অডিটোরিয়াম মিলনায়তনে আবসার তৈয়বী ও গোলাম দস্তগীর লিসানীর আনজুমানে মুহিব্বীনে আহলে বাইত সংগঠনের উদ্যোগে ‘মওলা ইমাম আলী (আ.) আন্তর্জাতিক কনফারেন্স’ আয়োজিত হয়।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

 

দুপুর ০২ টার পরে কুরআন তিলাওয়াত,হামদ নাত মানকাবাত গজলের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয় । পরে বক্তব্য দেন মাওলানা ফুয়াদ আল ফারুকী ও ড: আব্দুর রহমান আবুল উলায়ী। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য থেকে আগত সারকারে কালা ফাউন্ডেশন ইউকে এর প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান পীর সৈয়দ শাহ মুহাম্মদ আহসান আশরাফ আশরাফী জিলানী। আন্তর্জাতিক অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের আজমীর শরীফের খাদেম সৈয়দ গোলাম আম্বিয়া চিশতী, সৈয়দ গোলাম দস্তগীর চিশতী এবং সৈয়দ আতিফ কিবরিয়া চিশতী।

 

এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পীর শাহ সায়ীদ আনোয়ার মুবারকী, পীরে তরিকত শাহ সারোয়ার মোস্তফা আবুল উলায়ী, পীরে তরিকত আল্লামা আবদুল কুদ্দুছ মিজবাহ ও মিনহাজুল কুরআন বাংলাদেশ শাখার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) খুরশিদ আলম। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফারসি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আহসানুল হাদী, ঢাবি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতীব ড. সৈয়দ এমদাদ উদ্দীন নিজামপুরী, ইমামিয়া পাক দরবারের অধ্যাপক নূরে আলম মুহাম্মদী, মুশতাক আহমদ পাঞ্জাতনী, আমিনুল এহসান ফেরদৌস আল কদমী, আঞ্জুমান ই কাদেরীয়া মেদিনীপুর দরবারের মঞ্জুরুল ইসলাম কাদেরী, কক্সবাজারের মাওলানা এম এ আজিজ, শাহ মোহাম্মদ শাহাদাত ওয়ায়েছী ও এডভোকেট জাহাঙ্গীর চৌধুরী প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেছেন, মওলা ইমাম আলী (আ.) অতুলনীয় জ্ঞান ও মর্যাদার অধিকারী, যিনি যুগে যুগে সত্য সন্ধানীদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।বক্তারা আরও বলেন, পবিত্র আহলে বায়তের (আ.) আনুগত্য ও ভালোবাসা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভাজন দূর করে ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় আহলে বায়তের আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।

কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করেন আল্লামা শায়খ নূর মোহাম্মদ ভূঁইয়া এবং সঞ্চালনায় ছিলেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ নূরুল আবছার তৈয়বী।

 

কনফারেন্সে পবিত্র আহলে বায়ত (আ.) নিয়ে গবেষণা, লেখালেখি ও প্রচারে অবদানের জন্য ‘পাক-পাঞ্জাতন সম্মাননা’ প্রদান করা হয় পাঁচ গুণী ব্যক্তিকে।

সমাপ্তি পর্বে অনুষ্ঠিত হয় মিলাদ ও কিয়াম এবং দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত। শেষে ‘খায়রাতে পাঞ্জাতন’ তবারুক বিতরণ করা হয়। হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img