রাজধানীতে আশুরায় শিয়া সম্প্রদায় ও বিহারীদের তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত

আহসান শেখ : পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশের অনেক জেলায় শিয়া সম্প্রদায় ও অবাঙালি বিহারী জনগোষ্ঠীর আয়োজনে শোকাবহ তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয়ের মধ্য দিয়ে।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

 

রোববার (৬ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজধানী ঢাকার ৪০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক হোসাইনি দালান ইমামবাড়া থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ধানমন্ডি লেকে (অস্থায়ী কারবালা) গিয়ে শেষ হয় দুপুর আড়াইটায় । এসময় শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন ইয়া আলী ইয়া হোসেইন ইয়া আব্বাস বলে বুক চাপড়িয়ে কারবালার ঘটনার স্মরণে মাতম করে। এ মিছিলে শিয়াদের বিভিন্ন নিশান বা আলাম, ইমাম হোসাইনের প্রতীকী কবর সহ তাজিয়া বা তাবুত, জুলজিনাহ ঘোড়া, আলী আসগরের দোলনা বা ঝুলা ও পাঞ্জা ইত্যাদি দেখা যায়। হোসাইনি দালান ইমামবাড়ার সুপারিনটেনডেন্ট এম.এম. ফিরোজ হোসেন জানান, এবারের তাজিয়া মিছিল সাজানো হয়েছিল শোকের কালো ব্যানার, বেহেস্তা (লাল-সবুজ নিশান), পাঞ্জা, আলম, মাতম, দুলদুল ঘোড়া, খুনি ঘোড়া এবং একটি জারি তাজিয়া দিয়ে।

 

মিছিলটি উত্তর গেট থেকে বের হয়ে হোসাইনি দালান রোড, বকশীবাজার লেন, আলিয়া মাদ্রাসা রোড, গোর-এ-শহীদ মাজার মোড়, আজিমপুর, ইডেন কলেজ, নীলক্ষেত, সায়েন্সল্যাব, ধানমন্ডি ২ নম্বর রোড, বিজিবি গেট, সাত মসজিদ রোড হয়ে ধানমন্ডি লেকে প্রতীকী কারবালায় গিয়ে শেষ হয়। এসময় মিছিলে শিয়া সম্প্রদায় ও অবাঙালি বিহারীদের নওহা মরসিয়া গাইতে দেখা যায় ও গাড়িতে গাড়িতে শরবত বা পানির সাবিল ও ফল, হালকা খাবার বিতরণের চিত্র দেখা যায়। ডিএমপির নিষেধাজ্ঞা স্বত্ত্বেও কাউকে কাউকে ছুরি সহ জাঞ্জির জানি বা শরীর রক্তাক্ত করণ করতে দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি অনেকেই ঢাকঢোল বাজাতে দেখা যায়।

 

এর আগে গত ২৬ জুন মহররমের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকে হোসেনী দালানের ভিতর শিয়া সম্প্রদায়ের শোক মজলিস শুরু হয়েছিল যা শনিবার আশুরার দিবাগত রাতে সম্পন্ন হয়েছিল যেখানে শিয়া সম্প্রদায়ের আলেমগণ কারবালার ঘটনার বর্ণনা ও মাসায়েব পেশ করেন। রবিবার আশুরার দিন শেষে সন্ধ্যারাতে সেখানে শিয়াদের শামে গারীবার শোক মজলিস এর মাধ্যমে এই প্রথম দশদিনের শোক মজলিস এর সমাপ্তি হয়। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে হোসেনী দালানের প্রথম মিছিল এবং শনিবার দিবাগত রাত ২টায় দ্বিতীয় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। হোসেনী দালানের পাশাপাশি ফরাশগঞ্জ বিবিকা রওজা ইমামবাড়া থেকে শনিবার আশুরার দিবাগত রাতে রাত ০৮ টায় বিরাট তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হয় যা পুরান ঢাকার শ্যামবাজার,বাংলাবাজার,লক্ষীবাজার ও সূত্রাপুর অতিক্রম করে রাত সাড়ে দশটায় শেষ হয় এবং রবিবার আশুরার দিন দুপুর দুইটার পরে বিবিকা রওজা থেকে পাগলা তাজিয়া বা বোলতা গাওরা মিছিল অনুষ্ঠিত হয় যা ইসলামপুর ও বাবুবাজার হয়ে ধানমন্ডি লেকে শেষ হয় এটাই ছিলো বিবিকা রওজার মহররমের শেষ মিছিল।

 

 

এদিকে রবিবার আশুরার দিন সকালে ও তার আগের দিন শনিবার বিকেলে ঢাকায় পল্টন শিয়া মসজিদ ইমামবাড়া, মগবাজার ইমামবাড়া, মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদ, নাখালপাড়া গ্লাস ফ্যাক্টরি এলাকায় অবস্থিত ভয়েস অফ কারবালা শিয়া মসজিদ ইমামবাড়া, মিরপুর কারবালা মারকাযী ইমামবাড়া ও দরবারে পাঞ্জাতনী ইমামবাড়া থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হয় যা আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় প্রদক্ষিণ করে। এসকল ইমামবাড়ায় ২৬ জুন মুহররমের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকে রবিবার আশুরার দিন পর্যন্ত দশদিন শোক মজলিস ও মাসায়েব হয় যেখানে শিয়া সম্প্রদায়ের আলেমগণ বাংলা ও উর্দুতে ওয়াজ বয়ান পেশ করেন এবং রবিবার আশুরার দিন শেষে সন্ধ্যারাতে শামে গারীবার শোক মজলিস অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্প ও মিরপুর বিহারী এলাকায় অবাঙালি বিহারী সুফি জনগোষ্ঠীর লোকজন বিহারি ক্যাম্প ও তার আশপাশের রাস্তাসমূহে ০৯ ও ১০ মহররম (যথাক্রমে শনি ও রবিবার) তাজিয়া মিছিল আয়োজন করে যেখানে মরসিয়া, কাওয়ালী, পাইক, ঢাকঢোল বাজানো, লাঠিখেলা ইত্যাদি করেন তারা।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img