সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় গত ০৬ জুলাই পবিত্র আশুরা পালিত হয়েছিল। পবিত্র আশুরায় নবী হযরত মুসা আঃ এর নাজাত মুক্তি এবং ৬১ হিজরীতে কারবালার হৃদয়বিদারক যুদ্ধে হযরত ইমাম হোসাইন রাঃ এর শাহাদাত বরণ হয়েছিল। যে কারণে প্রতিবছর আশুরায় সুন্নি মুসলিমগণ নফল রোজা রাখা, ইবাদত বন্দেগী, ভালোভাবে গোসল করা, ওয়াজ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, ঈসালে সাওয়াব, পানি ও শরবত বিতরণ এর মাধ্যমে এবং শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলিমরা শোক মাতম, শোক মজলিস, তাজিয়া বা শোক মিছিল এর মাধ্যমে পালন করে থাকে।
রাজধানী ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আশুরা উপলক্ষে ইসলামি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মোহাম্মদপুর,শাহজাহানপুর ও মিরপুরের কয়েকটি মসজিদে গাউসিয়া কমিটির উদ্যোগে ওয়াজ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আউটার সার্কুলার রোড সুন্নতী জামে মসজিদ রাজারবাগ দরবার শরীফে আশুরা উপলক্ষে ইবাদত বন্দেগী ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মিরপুরের মিরপুর দরবার শরীফ আন্তর্জাতিক আশেকে রাসূল সংস্থার উদ্যোগে আশুরা উপলক্ষে বিশেষ মাহফিল সম্মেলন হয় যা পীর সাইদুর রহমান মাহবুবী পরিচালনা করেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আশুরা উপলক্ষে তাদের দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করেছিল। অনেক এলাকায় খিচুড়ি, পানি ও শরবত বিতরণ হয়েছিল।
নারায়ণগঞ্জ জেলায় আশুরার দিন ওয়াজ মিলাদ দোয়া মাহফিল, পানি ও শরবত বিতরণ এবং শিয়া সম্প্রদায় ও অবাঙালি বিহারীদের তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। নারায়নগঞ্জের অনেক মসজিদ সমূহে, আব্বাসী মঞ্জিল জৌনপুর দরবার শরীফ ও ইমামে রাব্বানী নারায়ণগঞ্জ দরবারে আশুরার আগের দিন ও আশুরার দিন ওয়াজ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। নারায়ণগঞ্জ এর অনেক এলাকায় বিএনপি, জামাতে ইসলামী, জাকের পার্টি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি ও বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ইনসানিয়াত বিপ্লব পার্টির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।জেলার আদমজী বিহারী কলোনী, মেট্রো হল এলাকা,কদম রাসূল দরগাহ সংলগ্ন এলাকায় শিয়া সম্প্রদায়, অবাঙালি বিহারী ও কিছু সুফি মাজারপন্থীদের তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
০৬ জুলাই পবিত্র আশুরা উপলক্ষে মেদিনীপুর দরবারের অনুসারী আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়ার উদ্দ্যোগে রাজবাড়ীতে বিরাট তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সোয়া ১০টার টার দিকে জেলা শহরের খানকা শরীফ বড় মসজিদ প্রাঙ্গন থেকে মিছিলটি শুরু হয়।আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া রাজবাড়ীর সভাপতি নাছিম সফির নেতৃত্বে মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক হয়ে বড় বাজার এলাকা প্রদিক্ষণ করে পুনরায় বড় মসজিদ খানকায় এসে শেষ হয়।পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়ার উদ্দ্যোগে রাজবাড়ীতে তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ দরবার অনুসারীরা আশুরায় জারি গান, লাঠিখেলা ও তাজিয়া মিছিল আয়োজন করেন।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সুন্নি মুসলিম ও শিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা পৃথক পৃথক পন্থা আনুষ্ঠানিকতায় আশুরা পালন করে। আশুরা উপলক্ষে নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে দশ দিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক শোহাদায়ে কারবালা মাহফিল ওয়াজ ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয় যা আশুরার দিন শেষ হয়েছিল। সেখানে বড় বড় সুন্নি দেশী ও বিদেশী আলেমগণ কুরআন সুন্নাহর আলোকে আশুরা,কারবালার ঘটনা, আহলে বাইত ও সাহাবীদের মর্যাদা, ইসলামের সঠিক আকীদা মতাদর্শ নিয়ে ওয়াজ বয়ান পেশ করেন,আলোচনা করেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের চেয়ারম্যান শায়খুল হাদীস কাযী মঈন উদ্দিন আশরাফী, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মুহাম্মদ আবুল হাসনাত। ধন্যবাদ বক্তব্য দেন জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের খতিব সৈয়দ আবু তালেব মুহাম্মদ আলাউদ্দীন । চট্টগ্রামে দাওয়াতে ইসলামীর মসজিদগুলোতে ওয়াজ ও মিলাদ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রামের অনেক এলাকায় ধর্মপ্রাণ সুন্নি মুসলিমগণ আশুরায় ফল,খিচুড়ি,পোলাও,পানি ও শরবত ফাতেহা সহ জনসাধারণের মাঝে বন্টন করেছিল। বারীয়া দরবার,দরবারে হাশেমীয়া,রাউজানের কাগতিয়া গাউসুল আজম দরবার,ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক মাইজভান্ডার দরবার,সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার,বোয়ালখালী আহলা সেহাবীয়া দরবার এবং আশরাফাবাদ দরবার ও তাদের অনুসারীরা আশুরায় ইবাদত বন্দেগী ওয়াজ ও মিলাদ দোয়া মাহফিল আয়োজন করে। অপরদিকে আশুরার দিন সকাল ৯ টার পরে চট্টগ্রামের হালিশহর শিয়া মসজিদ ইমামবাড়া ও নিউমার্কেট শিয়া মসজিদ থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা শোক তাজিয়া মিছিল করে যা বন্দরনগরীর বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করে সেখানে তাজিয়া, তাবুত, নিশান আলম,পাঞ্জা ও জুলজিনা ঘোড়া দেখা যায়। ওয়ারলেস কলোনীতে বিহারীদের বিরাট তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হয় যা পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যার আগেই সমাপ্তি হয়।

আশুরার দিন ফরিদপুর,মানিকগঞ্জ,গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, শরীয়তপুর,মাদারীপুর, বরিশাল ও টাঙ্গাইল ইত্যাদি জেলায় সুন্নি মুসলিমগণ ইবাদত বন্দেগী নফল রোজা দান সদকা ওয়াজ মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে আশুরা পালন করলেও সেসব জেলার অনেক স্থানীয় লোকজন তারা তাজিয়া মিছিল ও জারি গান মরসিয়ার মাধ্যমে আশুরা পালন করেছেন। ফরিদপুর আটরশি জাকের মঞ্জিল ও শেরপুরের মুর্শিদপুর দরবারে আশুরায় ওয়াজ জিকির মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হয়। মানিকগঞ্জের গড়পাড়া ইমামবাড়ী দরবার থেকে তাদের অনুসারীরা বিরাট তাজিয়া মিছিল আয়োজন করেন যা জেলা শহরের সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। এ শোকমিছিল মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড হয়ে জেলা শহরে সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের মাঠে গিয়ে শেষ হয় ও সেখানে বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত ধর্মীয় আলোচনা মরসিয়া ও জারি গান অনুষ্ঠিত হয় । বরিশালে পাকপাঞ্জাতন পরিষদের উদ্যোগে তাজিয়া মিছিল, কাওয়ালী ও জারি গান অনুষ্ঠিত হয়।
যশোর জেলায় স্থানীয় শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন শোক মজলিস ও তাজিয়া মিছিল আয়োজন করেন। নীলফামারীর সৈয়দপুরে শিয়া সম্প্রদায় ও অবাঙালি বিহারী জনগোষ্ঠী পৃথক পৃথক আয়োজনে আশুরা পালন করেন। সিলেট বিভাগের সিলেট জেলায় কিছু স্থানীয় লোকজন তাজিয়া মিছিল আয়োজন করেন এবং মৌলভীবাজার জেলায় কুলাউড়া পৃত্থিমপাশা নবাববাড়িতে শিয়া ইমামবাড়ায় দশদিন শোক মজলিস এবং আশুরার দিন সেখানে তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।


