আহসান শেখ : সম্প্রতি গত ২১ আগস্ট বৃহস্পতিবার চারদিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন পাকিস্তানের সরকারের বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী, বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টির সাবেক নেতা ও বর্তমানে পাকিস্তানের সংসদ জাতীয় পরিষদের ক্ষমতাসীন দল মুসলিম লীগ পিএমএল-এনের সংসদ সদস্য জাম কামাল খান। ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী শেখ বশিরউদ্দিন।
বাংলাদেশ সফরের প্রথম দিনে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে (ডিসিসিআই) ডিসিসিআই সভাপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার নিজ দপ্তরে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান বৈঠক করেন। বৈঠকে পাকিস্তানের করাচি বন্দর থেকে সরাসরি পণ্যবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসায় দুই দেশের বাণিজ্য কার্যক্রম বেড়েছে বলে জানান খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার । পাকিস্তানের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার ইমরান হায়দার এ সময় উপস্থিত ছিলেন । সফরের দ্বিতীয় দিন ২২ আগস্ট শুক্রবার পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী চট্টগ্রামে যান। আগ্রাবাদের বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের বৈঠকে অতিথি হিসেবে তিনি উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামে তিনি বলেন চলতি বছরের মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি আরো বলেন যে বাংলাদেশে যোগাযোগের বিষয়ে পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। আকাশ পথ ছাড়া এটি সম্ভব নয়। চলতি বছরের শেষনাগাদ সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে চেষ্টা করা হবে এবং জাহাজ চলাচলের বিষয়ে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা আঞ্চলিক সংযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছি। চাল, গমসহ নিত্যপণ্য দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আদান-প্রদান হলে জাহাজগুলো দুপক্ষের জন্যই উপকারী হবে। শুধু সময় বাঁচবে না, খরচও কমবে। তার আগে এ যোগাযোগের বাধাগুলো উভয়ে মিলে দূর করতে হবে।

সম্পর্কোন্নয়নে দুদেশের যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের ১০টির বেশি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছে। পরে চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেন।
এদিকে আজ ২৪ আগস্ট রবিবার ঢাকায় ফিরে আসার পরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিকেলে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) মতিঝিল কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক আলোচনা সভায় অংশ নেন পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের সংকট কাটিয়ে উঠে উন্নয়নের সম্ভাবনা দেখছেন তিনি, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নে দুই দেশই বর্তমানে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যেও যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। পর্যটন, সংস্কৃতি, শিপ বিল্ডিং, কন্সট্রাকশন, আইসিটি ইত্যাদি সহ অনেক খাতে বাণিজ্য বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলো চিহ্নিত করতে পর্যায়ক্রমে পাকিস্তানের খাতভিত্তিক ডেলিগেশন বাংলাদেশে আসবে বলে জানান তিনি।
চলমান সফরে বাংলাদেশের বন্দরনগরী চট্টগ্রাম পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানি জাহাজ তৈরি করে। পাকিস্তানেরও জাহাজ আমদানি করতে হয়। এখানে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ থেকে নির্মাণ সামগ্রীও আমদানির সুযোগ দেখেছেন পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী। তবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পাশাপাশি ত্রিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের দিকেও মনোযোগ দেওয়ার গুরুত্ব উল্লেখ করেন জাম কামাল খান।


