ঢাকার ধুপখোলা মাঠে সীরাতুন্নবী সাঃ মাহফিল অনুষ্ঠিত

আহসান শেখ : গত ২৯ আগস্ট শুক্রবার রাজধানী ঢাকার গেন্ডারিয়া ধুপখোলা মাঠে বাংলাদেশ জাতীয় সীরাত কমিটির উদ্যোগে রবিউল আউয়াল মাস উপলক্ষে বিশাল সীরাতুন্নবী সাঃ সম্মেলন মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় যা সকাল থেকে শুরু হয়ে রাতে শেষ হয়। এ মাহফিলে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলিমগণ যোগদান করেন।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

 

এ মাহফিলে প্রধান মেহমান হিসেবে বর্তমান সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা আফম খালিদ হোসেন, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরের তথ্যমন্ত্রী, আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী রহঃ এর ছেলে আল্লামা মাযহার সাঈদ শাহ এবং পাকিস্তান ইসলামী রুহানী মিশনের প্রতিষ্ঠাতা ড: আল্লামা মাকসুদ ইলাহী নকশবন্দী উপস্থিত ছিলেন। সকালে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, হামদ নাত ইসলামী সংগীত ও সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে মাহফিল শুরু হয়। এ মাহফিলে শায়খুল হাদীস মাওলানা মামুনুল হক, চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম, ফরিদাবাদ জামিয়ার মুহতামিম আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস, মধুপুরের পীর আব্দুল হামিদ, আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী,আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা আরিফ বিন হাবিব, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী,মাওলানা হাসান জামিল, নজরুল ইসলাম কাসেমী, ফুরফুরা দারুসসালাম এর পীর আল্লামা আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী সহ ৩৩ জন আমন্ত্রিত আলেম উলামা মেহমানগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

জুমার আজানের আগে সকাল ১১ টার দিকে আল্লামা মাকসুদ ইলাহী নকশবন্দি উর্দুতে আলোচনা করেন। জুমাপূর্ব আলোচনা পেশ করেন মুফতি মুজিবুর রহমান। দুপুরে জুমার নামাজের পরে বয়ান দেন বাহাদুরপুরের পীর। বিকেলে আসরের নামাজের আগে মুফতি নজরুল ইসলাম কাসেমী বয়ান দেন। আসরের নামাজের পরে আনিছুর রহমান আশরাফী,মুফতি আরিফ বিন হাবিব ও মাওলানা মুশতাকুন্নবী আলোচনা পেশ করেন। মাগরীবের আজানের আগে মাওলানা খালেক সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী ও আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীবের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা বয়ান হয়। মাগরিবের নামাজের পরে কুরআন তিলাওয়াত শেষে শায়খুল হাদীস মাওলানা মামুনুল হক ও চরমোনাইর পীর সহ গুরুত্বপূর্ণ অতিথিগণ উপস্থিত হন। সেসময় মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী বয়ান দেন।

 

তারপর আল্লামা মামুনুল হক বয়ান প্রদান করেন। এ সময় তিনি রাসূল সাঃ এর সীরাত ও সমকালীন দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন তিনি বলেন ১৯৭২ এর প্রণীত বিতর্কিত সংবিধান অনুযায়ী কোন নির্বাচন এদেশে হতে দেওয়া উচিৎ নয়। তারপর মাওলানা মামুনুল হক তার বক্তব্য শেষে চরমোনাই পীর এর হাত ধরেন, এ সময় আবেগপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তারপর চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম এবং ধর্ম উপদেষ্টা আফম খালিদ হোসেন গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।

 

এশার নামাজের পরে মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ আজাদী, আল্লামা মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন ও আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী ওয়াজ বয়ান প্রদান করেন। রাত দশটায় ফরিদাবাদ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করেন,এবং প্রধান অতিথি পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরের তথ্যমন্ত্রী আল্লামা মাজহার সাঈদ শাহ মঞ্চে উপস্থিত হন। আল্লামা মাজহার সাঈদ শাহ উর্দুতে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন যেখানে সীরাতুন্নবী সাঃ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ফিলিস্তিন, কাশ্মীর এবং ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করেন সবশেষে রাত ১১ টার পরে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে এ সম্মেলন শেষ হয়।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img