আফগান মন্ত্রী আমির মুত্তাকীর ভারত সফর ও দেওবন্দ পরিদর্শন : যা যা হয়েছিল

আফগানিস্তানের তালেবান ইসলামী ইমারত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমীর খান মুত্তাকী ৯ অক্টোবর থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী সফরের জন্য ভারতে রয়েছেন। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা থেকে অস্থায়ী ছাড় পেয়ে এই সফর সম্পন্ন হয়েছে, যা ২০২১ সালে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর ভারতে কোনো উচ্চপদস্থ আফগান নেতার প্রথম অফিসিয়াল সফর। এর মধ্যে মুত্তাকী তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ঐতিহাসিক দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন ।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জয়শঙ্কর মুত্তাকীকে জানান যে, ভারত কাবুলে তার টেকনিক্যাল মিশনকে পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসের মর্যাদা প্রদান করছে। এটি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বৈঠকে আলোচনা হয়েছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ এবং আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা নিয়ে। মুত্তাকী বলেন, “ভারতকে আমরা ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে দেখি। আফগান ভূখণ্ড থেকে ভারতের বিরুদ্ধে কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ হতে দেব না।” তিনি আরও জানান, আফগান ছাত্ররা ভারতে প্রকৌশল, বিজ্ঞান এবং ধর্মীয় শিক্ষার জন্য আসে, যা সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

এরপরই শনিবার (১১ অক্টোবর) মুত্তাকী উত্তরপ্রদেশের সহারনপুর জেলার দেওবন্দে অবস্থিত উপমহাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন। মুত্তাকীকে মাদ্রাসার মুফতি আবুল কাসিম নোমানীসহ শীর্ষস্থানীয় উলামাদের সঙ্গে দেখা হয় এবং তাঁকে ‘হাদিস এর সনদ ‘ প্রদান করা হয়, যার ফলে তিনি এখন ‘মৌলানা আমীর খান মুত্তাকী কাসেমী’ নাম ব্যবহার করতে পারবেন। মুত্তাকী বলেন, “দেওবন্দের সঙ্গে আফগানিস্তানের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এটি ইসলামী শিক্ষার বিশ্বব্যাপী কেন্দ্র। এই সফর ভারত-আফগান সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।”

দেওবন্দ পরিদর্শনের পর মুত্তাকী আগ্রায় তাজমহল দেখে আসেন এবং নয়াদিল্লিতে ভারতীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গেও আলোচনা করেন। সফরের প্রথম দিনেই মুত্তাকীর সংবাদ সম্মেলনে মহিলা সাংবাদিকদের অনুপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক উঠলেও পরবর্তীকালে তা সমাধান হয়। ভারতের এই সফরকে বিশ্লেষকরা দেখছেন আফগানিস্তানের প্রতি ভারতের ‘আড়াল থেকে খোলামেলা’ নীতির পরিচায়ক হিসেবে। পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্কের অবনতি এবং সাম্প্রতিক মস্কো ফরম্যাটে ভারতের অংশগ্রহণের পর এটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত ইতিমধ্যে আফগানিস্তানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অভিবাসী পুনর্বাসন খাতে সহায়তা প্রদান করে আসছে।

এই সফরের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন গতি সঞ্চার হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তবে এ সফর নিয়ে পাকিস্তানের সরকার সমালোচনা করেছে ।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img