বিগত ১৭ বছরে যত গুম-খুন হয়েছে তার প্রত্যেকটা ভিকটিমের জন্য যদি একবার করে বিচার করতে যান তাহলে এ বিচার কেয়ামত পর্যন্ত শেষ হবে না। জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর চানখারপুলে পুলিশের গুলিতে ৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার জেরা জবানবন্দি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এ কথা বলেন। ট্রাইব্যুনালে দায়ীদের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে উপদেষ্টা আসিফ বলেন, জুলাই আন্দোলনে কোনো মাস্টারমাইন্ড ছিলো না. সবার মতামত নেওয়া হতো। জেরা শেষে সাংবাদিকরা উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করেন চিফ প্রসিকিউটর আজকে বলেছেন, শেখ হাসিনার অপরাধের যে মাত্রা এবং ১৪০০ মানুষ হত্যা করেছেন, তাই ১৪০০ বার মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। আপনারা একমত কি না। জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, ১৪০০ মানুষকে তো গণঅভ্যুত্থানের সময় হত্যা করেছিল। কিন্তু বিগত ১৭ বছরে আরও কত হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, এর তো কোনো ইয়ত্তা নেই। এখন আমরা বিভিন্নভাবে তালিকা পাচ্ছি। এর আগে আমরা বিডিআর হত্যাকাণ্ড ও শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেছি। শত শত মানুষকে গুম করে হত্যা করা হয়েছে। অনেককে ফিরে পাওয়া যায়নি। আমরা আয়নাঘর প্রত্যক্ষ করেছি। সুতরাং প্রত্যেকটা ভিকটিমের জন্য যদি আপনি একবার করে বিচার করতে যান তাহলে এ বিচার কেয়ামত পর্যন্ত শেষ হবে না। আমরা এসব ভিকটিমদের পক্ষ থেকে এই মিসডিডগুলো যে শেখ হাসিনা বা যারা জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আশা করি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে। জুলাই আন্দোলনে প্রধান কেউ ছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, আমাদের যে সমন্বয় কমিটি ছিল, সবাই সমমর্যাদার ছিল। প্রথম দিক থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমরা বাই রোটেশন লিডারশিপ সামনে নিয়ে আসব, যাতে করে ফ্যাসিবাদী সরকার শনাক্ত করতে না পারে কারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আন্দোলনের প্রয়োজনে কয়েকজন হয়তো সামনে চলে এসেছেন, বাংলাদেশের মানুষ কয়েকজনকে বেশি জানেন বা কাউকে কম জানেন। তবে ফরমালি আমাদের সবার মর্যাদা সমান। পুলিশ নিহতের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, চানখারপুলে ৬ হত্যা মামলায় সেখানে কোনো পুলিশ নিহত বা আহত হয়েছিল কি না। সেখানে আমার জানামতে কোনো পুলিশ নিহত বা আহত হয়নি। সারা দেশে যেটা বলা হচ্ছে, সেটা অস্পষ্ট। এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু আমার জানা নেই, সেটাই আমি আদালতে বলেছি। এর আগে এ মামলায় প্রসিকিউশনের ১৯ নম্বর সাক্ষী হিসেবে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১-এ ৯ অক্টোবর আংশিক জবানবন্দি দেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পুলিশের সাবেক ৮ সদস্য এই মামলার আসামি। তাদের মধ্যে চারজন পলাতক। তারা হলেন- সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল। গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন- শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ও মো. নাসিরুল ইসলাম। গত ৯ অক্টোবর এ মামলায় সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনালে এসেছিলেন উপদেষ্টা আসিফ। দুপুর পৌনে ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তার সাক্ষ্যগ্রহণ চলে। তবে শেষ না হওয়ায় অবশিষ্ট জবানবন্দি নিতে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল-১। ওই দিন ১৯ নম্বর সাক্ষী হিসেবে নিজের সাক্ষ্যে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পুরো পটভূমি তুলে ধরেন আসিফ মাহমুদ। একইসঙ্গে গত বছরের ৫ আগস্ট চানখারপুলে চালানো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নৃশংসতার বিবরণ দেন তিনি। এমনকি ডিবি পরিচয়ে রাতের আঁধারে নিজেকে গুম করার কথাও জবানবন্দিতে পেশ করেন তিনি। এসব ঘটনার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ সরাসরি জড়িতদের দায়ী করেছেন এই উপদেষ্টা।
এরপর নাগা দ্বিতীয় বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করলেও এখনও সিঙ্গেলই রয়ে গেছেন সামান্থা। বর্তমানে কেউ নেই অভিনেত্রীর জীবনে। এ দিকে প্রাক্তন স্বামীর বিয়ের চারদিন পর স্মৃতি হাতড়াচ্ছেন সামান্থা। ফিরে দেখছেন সংসার জীবনের নানা টানাপোড়েন এবং উত্থান-পতনের গল্প। ইনস্টাগ্রামের একটি পোস্টে অকপটে সে বার্তাই জানালেন অভিনেত্রী।
ক্যাপশনে সামান্থা লিখেছেন, ‘বছর শেষের পথে। আমরা ফিরে দেখি সেই উত্থান-পতনগুলো যা আমাদের যাত্রাকে সুগম করেছে। চ্যালেঞ্জ থেকে জয়, উন্নতি ও আনন্দের মুহূর্তগুলো তুমি এক উজ্জ্বল তারকার মতো শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছ। এই বছরটি আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েছে। সেইসঙ্গে শিখিয়েছে শক্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জন।’
এর আগে, নাগা চৈতন্যের বিয়ের দিন ইনস্টাগ্রামে একটি মেয়ে ও একটি ছেলের লড়াইয়ের ছবি পোস্ট করেছিলেন সামান্থা। এর সঙ্গে লেখেন, ফাইট লাইক গার্লস! যেখানে অপমানিত হবে, সেখানে চুপ না থেকে লড়াই করে যাও।


