ইসলামি জোটের আড়ালে ইসলামী আন্দোলনকে নামসর্বস্ব পার্টিতে পরিণত করেছে জামাত!

জামায়াতে ইসলামের মওদূদী আদর্শের কিছু পেইড নেতা বিভিন্ন দলে গুপ্ত হিসেবে কাজ করছে। এই গুপ্ত নেতাদের বিষয়গুলো আমরা যারা রাজনৈতিক বৃক্ষের ছায়ায় বেড়ে উঠেছি তারা আগে থেকেই জানতাম। সাধারন মানুষ ৫ আগস্টের আগে বিভিন্ন দলে গুপ্ত শিবির গুপ্ত জামাতের কথা কল্পনাও করতে পারতো না।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

ডাকসু ভিপি সাদিক কাইম, এই তো কয়দিন আগে নৌকা নৌকা মিছিল করে সেলফি তুললো, যেই হাসিনা পল্টি খেলো তখনি সে শিবির বলে ঘোষণা দিলো। জামাত ইসলামের পেইড নেতা বলতে যে তারা সরাসরি টাকা দিয়ে তাদের পরিচালনা করে বিষয়টা এমন নয়। বরং নেতাদের আর্থিক যোগান দিতে সহায়তা করে। যেমন ধরেন কেউ কোন প্রতিষ্ঠান দিছে সেই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে তাদের নেতারা কাজ করে। কেউ কোন মাদ্রাসা দিছে, সেই মাদ্রাসার মধ্যেই জামাতের নেতাকর্মীদের বাচ্চাকাচ্চা দিবে। তাদের কেউ হাসপিটাল দিছে সেই হসপিটালেই মানুষদেরকে রিকমেন্ট করবে ইত্যাদি ইত্যাদি। এই রকম জামাতের পেইড নেতা সব দলেই মোটামুটি কয়েকজন পেয়ে যাবেন।

ইসলামী আন্দোলনে বেশ কিছু জামাতের পেইড নেতা আছে তার মধ্যে অন্যতম শ্রমিক আন্দোলনের সেই নেতা তার একান্ত সহকারী গাজীপুরের হেভিওয়েট আরেক নেতা, সাবেক এক ছাত্র নেতা তো দলে এবং দলের বাহিরে জামাতের বয়ান ফেরি করে বেড়ায় অর্থাৎ জামাতের ডিফেন্স এর ভূমিকা সব সময় তাকে পাবেন।
আজকে নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে জামাতেকে কেউ ডিফেন্স করুক আর না করুক ইশা ছাত্র আন্দোলনের সাবেক ছাত্রনেতা কিন্তু ঠিকই ডিফেন্স করেছে। বিভিন্ন দলে অবস্থানরত জামাতের পেইড নেতাদের কাজ হল, জামাতের রাজনৈতিক কর্মসূচি গুলো বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা।

মরহুম পীর সাহেব রহ. এই শ্রমিক নেতাকে জামাতের গুপ্ত হিসাবে কাজ করার অপরাধে বহিষ্কারও করেছিলেন। কথিত আছে ৫ই আগস্ট এর পর থেকে জামাতের দেওয়া রাজনৈতিক কর্মসূচি গুলো ইসলামী আন্দোলন এই শ্রমিক নেতার মাধ্যমেই গ্রহণ করেছে। অবশ্য বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে গাজীপুরের নেতা রশদ যুগিয়েছেন। বর্তমানে ইসলামী আন্দোলনের সকল আলো ছিনিয়ে নিয়ে জামাত খুব মস্তিতেই আছে বলা যায়। ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতিকে মোটামুটি নাই করে দিয়েছে।

খোঁজ নিলে জানতে পারবেন তৃণমূলের ইসলামী আন্দোলনের নেতা কর্মীরা ইতিমধ্যে জামাতে যোগ দেওয়া শুরু করেছে। এবং ইদানিংকালে ইসলামী আন্দোলনের কর্মসূচিতে তাদের নেতাকর্মীর উপস্থিতি কম দেখা যাচ্ছে। আমি একজন বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক নেতা হওয়ার দরুন। ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতি নাই হয়ে যাওয়ায় খুশি হওয়ারই কথা ছিলো, কিন্তু খুশি হতে পারিনি।

আওয়ামী লীগ যেমনি ভাবে জাতীয় পার্টির বহু নেতা কর্মী থাকা সত্বেও এমনকি বিরোধী দল বানিয়েও নামসর্বস্ব পার্টিতে পরিনত করেছিলো, ঠিক তদ্রূপ ইসলামি জোটের নামে ইসলামি আন্দোলনকে নামসর্বস্ব পার্টিতে পরিনত করেছে জামাত। ইসলামী রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসলামী আন্দোলনকে বলা হয় আজিমুশশান ফেতনা। এই আজিমুশশান ফিতনার কারণেই সমমনা ইসলামী দল গুলোর জোট করা সম্ভব হয়নি।

সমমনা ইসলামী দল গুলোর জোটে ইসলামী আন্দোলনকে অন্তর্ভুক্তির পর সমমনা জোটে জামাতকে নেওয়ার জোর প্রস্তাব দেয় গাজীপুরের সেই মহান নেতা। এরেই জের ধরে সমমান জোট পরবর্তীতে আর আগে বাড়তে পারেনি।
পরিশেষে বলতেই হচ্ছে ইসলামী আন্দোলন তাদের রাজনৈতিক জৌলুশ হারিয়েছে। জামাতের সাথে ইসলামী আন্দোলনের এই জোটে তাদের যে ক্ষতি হয়েছে এতে করে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের ত্যাগী কর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকে আবার দলকে পরামর্শ দিচ্ছে জামাতের সাথে জোট না করার।

আমি একজন ইসলামী রাজনীতির কল্যাণকামী হিসেবে আশা করব ইসলামী আন্দোলন এই সংকট থেকে বের হয়ে আসবে।
চাইলে সচ্চ ইসলামি জোটের বিষয়টা বিবেচনা করতে পারেন, কেননা আপনারা ছাড়া মওদূদী কওদূদীদের জোট আর আলোর মুখ দেখবে না। এখন আপনারাই সিদ্ধান্ত নিবেন আপনাদের রাজনৈতিক জৌলুশ জামাতের পায়ের নিচে বিসর্জন দিবেন নাকি ঘুরে দাঁড়াবেন।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img