মহিউস সুন্নাহ সাহেবের ‘‘জালালী তবিয়ত’’ নিয়ে নেটপাড়ায় সমালোচনার ঝড়

গত শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) ময়মনসিংহে ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহী উদ্যোগে একদিনব্যাপী কেন্দ্রীয় সীরাতুন্নবী সম্মেলনে মহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান ভরা মজলিসে থাপ্পর মারেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে। সাথে সাথেই থাপ্পড়ের একটি ভিডিও ক্লিপ নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

বিষয়টিকে কেন্দ্র করে নেটিজনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেক বলছেন, ‘‘এটি হযরতের জালালি তবিয়তের (হযরত শাহ জালাল রহ. যেহুতু একটু রাগী লোক ছিলেন, তাই বড় আলেমদের ক্ষেত্রে জালালী তবিয়ত শব্দটি ব্যবহার করা হয়) বহিঃপ্রকাশ। মূলত তিনি ভালবেসে মৃদ চড় দিয়েছেন।’’

আবার অনেকেই দ্বিমত পোষণ করে বলছেন, ‘‘এটা কোন ধরণের সুন্নাত? আলেমদের মধ্যে বিষয়টা দেখতে খুবই দৃষ্টিকটু দেখাচ্ছে।

জেনারেল শিক্ষিত এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘‘আমি আলেমদের মহব্বত করি। আল্লামা মাহমুদুল হাসান সাহেব এবং মামুনুল হক সাহেব উভয়কেই শায়েখ পর্যায়ের মানুষ হিসেবে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি। সম্প্রতি আলোচিত ঘটনাটি আমি সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছি। ঘটনাটি মোটেই এমন ছিল না, যেভাবে অনেকে চড়-থাপ্পড় বা অপমানের রঙ লাগিয়ে উপস্থাপন করছেন। ঘটনার প্রেক্ষাপট ছিল খুবই সাধারণ।

আল্লামা মাহমুদুল হাসান সাহেব ক্যামেরার সামনে আসতে অপছন্দ করেন। তাই ক্যামেরা সামনে থাকা নিয়ে আল্লামা মাহমুদুল হাসান সাহেব মামুনুনুল হক সাহেবকে মৃদু ধমক দেন এবং বলেন তুমি বললেই তো এরা সরে যেত।

এটি এমন একটি মুহূর্ত ছিল, যা পরস্পরের ঘনিষ্ঠতা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। উপস্থিত সবাই এ ঘটনায় আবেগঘন আনন্দ প্রকাশ করেছিল।’’

প্রত্যক্ষদর্শী আরো বলেন, ‘‘ঘটনাটি জনসম্মুখেই ঘটেছিল এবং সেখানে কারও চোখে কোনো বিস্ময় বা সামান্যতম অস্বস্তি ছিল না। বরং এটি শায়েখ শাগরিদের মতো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ভালোবাসার একটি স্নেহপূর্ণ দৃশ্য মনে হয়েছে।  যারা ঘটনাটিকে চড়-থাপ্পড় বা অপমান বলে প্রচার করছেন, তারা হয়তো এই সম্পর্কের গভীরতা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। এটি এমন কিছু নয়, যা বিদ্বেষ বা সমালোচনার যোগ্য।’’

তবে অনেক স্কলার ও ইনফ্লোয়েন্সার ফেসবুক পোষ্ট দিয়ে করছেন কঠোর সমালোচনা। ইসলামী আলোচক রাফী বিন মুনির লিখেন, সন্তান জেলে থাকা অবস্থায় বাবার ভূমিকা কী ছিল?

স্বাধীনতার সূর্যোদয় গ্রাফিতি ক্যালিগ্রাফার উসাইদ মুহাম্মাদ লিখেন, ‘‘ভালোবাসার গুল্লি মারি, থাপ্পর কেন দিবি ব্যাটা? আওয়ামীলীগ কোথাকার।’’

ইসলামী আলোচক আব্দুর রহমান মাদানী লিখেন, ‘‘হাজার হাজার মানুষের সামনে একজন সম্মানিত আলেমের গালে থাপ্পর মেরে (বদ মেজাজ) প্রদর্শন, এটা কোন সুন্নত জিন্দা করা?’’

তবে এক নির্ভরযোগ্য সূত্র টাইমস রিপোর্টকে জানায়, মাওলানা মামুনুল হকের সাথে এবিষয়ে কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি খুব নরমালি নিয়েছেন বুঝা যায়। তিনি মনে করেন, এটি তার শিক্ষকতূল্য হিসেবে পরস্পরের ঘনিষ্ঠতা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

উল্লেখ্য, শনিবার সকালে আঞ্জুমান ঈদগাহ ময়দানে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহীর কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া সীরাতুন্নবী সম্মেলন মধ্যরাত পর্যন্ত চলে।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহী ময়মনসিংহ জেলার সভাপতি মুফতী মহিবুল্লাহ, মজলিসে শূরা সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহমান হাফেজ্জী, মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা আবদুল হাই রাহমানী, মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা এমদাদুল হক, মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা আবদুল হক, মাওলানা জিয়া উদ্দীন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহী কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহী মজলিসে আমেলার সিনিয়র-সহ সভাপতি মাওলানা মুফতী আহমদ আলী, মাওলানা দিলাওয়ার হোসাইন, মাওলানা আনওয়ারুল হক, মাওলানা যাকারিয়া, মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশিদ।

সম্মেলনে বয়ান পেশ করন, মাওলানা মুফতী হাবীবুর রহমান খায়রাবাদী, শায়খ আবু ওবায়দা মোহাম্মদ ওমর খাজির, হযরত মাওলানা মাহমুদুল হাসান, হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা মুনির কাসেমী, মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী। এসময় উপস্থিত ছিলেন, ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহী ময়মনসিংহ জেলার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বিন হাফিজি, ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহী ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সভাপতি মুফতী গোলাম মাওলানা ভূঁইয়া প্রমুখ।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img