নেপালে মাত্র ২–৩ দিনে জেনজি বিক্ষোভকারী ও সাফাল ওয়ার্কার্স কমিটির ডাকে ব্যাপক আন্দোলন বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন নেপালের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কেপি ওলি শর্মা ও তার মন্ত্রীসভার ৪–৫ জন মন্ত্রী, বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবন দখলে নিয়েছে ও কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রীদের বাসায় আগুন দিয়েছে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি ওলি হেলিকপ্টারযোগে পালিয়েছেন । সেদেশে নিরাপত্তার জন্য সেদেশের সেনাবাহিনী নেপালী আর্মড ফোর্সেস মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে তাঁর পদত্যাগের পরও বিভিন্ন সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং সরকারের মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ০৮ সেপ্টেম্বর সোমবার নেপালের রাজপথে নেমে আসেন কয়েক হাজার মানুষ। বিক্ষোভকারীদের বেশির ভাগই বয়সে তরুণ বা জেন-জি প্রজন্মের। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ দেশটির অন্তত সাতটি শহরে এদিন ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভ দমনে কঠোর হন অলি সরকার। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন নিহত হন।
বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগ ওঠে সরকারের বিরুদ্ধে। এমনকি সরকারের একাধিক মন্ত্রী এ অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেন। গত সপ্তাহে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, এক্সসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম ও বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল অলির নেতৃত্বে থাকা নেপাল সরকার।
নতুন নিয়মনীতি মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার কারণ দেখিয়ে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তবে নিয়ম মানায় টিকটকসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বিধিনিষেধের আওতার বাইরে ছিল। সরকারের এ নিষেধাজ্ঞার ফলে নেপালের ব্যবসা ও পর্যটন খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে। প্রবাসে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায় নাগরিকদের।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সকালে কাঠমান্ডুসহ কয়েকটি এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়। কিন্তু সেই কারফিউ তরুণদের মিছিল থামাতে পারেনি। এদিনও দুজন নিহত হওয়ার খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার ০৯ সেপ্টেম্বর ভোরে বিক্ষোভকারীরা মিছিল করে ভক্তপুরের বালকোট এলাকায় প্রধানমন্ত্রী (এখন পদত্যাগ করেছেন) অলির ব্যক্তিগত বাসভবনের দিকে রওনা দেন। পথে পুলিশ তাঁদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা পিছু হটতে অস্বীকৃতি জানান এবং বাধা উপেক্ষা করে সামনে অগ্রসর হন। শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা অলির বাসভবন প্রাঙ্গণে ঢুকে দুটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।
জেন-জি বিক্ষোভকারীরা ক্ষমতাসীন জোটের শরিক নেপালি কংগ্রেস পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এ ছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্যান্য মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতার বাড়ি ও প্রধান প্রধান দলীয় কার্যালয়েও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
ললিতপুরে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুংয়ের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বিষ্ণু পাউডেলের ভৈসেপাতির বাড়িতে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। সোমবার পদত্যাগ করা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের বাড়িতেও হামলা চালান বিক্ষোভকারীরা।
বিভিন্ন জায়গায় মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বাসভবন ও দলীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভকারীদের হামলার জেরে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করলে আজ সেনা হেলিকপ্টারে করে ভৈসেপাতিতে মন্ত্রীদের বাসভবন থেকে তাঁদের সরিয়ে নেওয়া হয়। জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কাঠমান্ডু পোস্টকে বলেছেন, পার্লামেন্ট ভবনের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সামরিক ব্যারাকে নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে।


