শোষণ ও বৈষম্যবিরোধী বাম গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) চারদিনব্যাপী ত্রয়োদশ কংগ্রেস ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে উদ্বোধন করা হয়েছে।জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন সিপিবির সভাপতি শাহ আলম ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কংগ্রেস আহ্বায়ক, প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
সারা দেশ থেকে আগত প্রতিনিধি, পর্যবেক্ষক ও ঢাকার আশপাশের জেলা থেকে আসা সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে সাংস্কৃতিক উপ-পরিষদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন ঘটনা এবং দেশে-বিদেশে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ।
বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে সিপিবির কংগ্রেসে প্যালেস্টাইনের জনগণের সংগ্রামের সঙ্গে সংহতি জানানো হয়। এরপর সিপিবির প্রবীন কমরেডদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এই পর্ব পরিচালনা করেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড রফিকুজ্জামান লায়েক।
সভাপতির বক্তব্যে শাহ আলম বলেন, সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। দেশীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক; পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে— এটাই পথ। বর্তমানে সংবিধানের মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক ভিত্তিকেই চ্যালেঞ্জ আনছে; তাই বাম গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য অপরিহার্য। শ্রমজীবী মানুষের বিকল্প শক্তি কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে এবং বাম গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে ঐক্য সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের সমর্থন নিয়ে বাম গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি নিতে হবে। যারা দেশকে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা থেকে সরিয়ে নিতে চায় তাদের বিরুদ্ধে সিপিবি সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের টাইকুনেরা বিভিন্ন দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করছে; তারা বাংলাদেশকেও ব্যর্থ রাষ্ট্র বানাতে চায়—সেটার বিরুদ্ধে তীব্রভাবে লড়ে উঠতে হবে। দেশে জনগণ নির্বাচন চায়; নির্বাচন ছাড়া রাজনৈতিক ভারসাম্য অনুপস্থিত থাকবে। অতএব আমাদের মৌলিক দাবি হওয়া উচিত—অতিসত্বর নির্বাচিত সরকার। একই সঙ্গে নিও-লিবারেল শক্তির বিরুদ্ধেও আমাদের সক্রিয় লড়াই অব্যাহত থাকবে।
সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, দেশে দক্ষিণপন্থি উগ্র প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটেছে। আধিপত্যবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী দেশসমূহ আমাদের দেশের ওপরে আধিপত্য বিস্তারে আগ্রাসী ভূমিকা নিচ্ছে। গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে অনতিবিলম্বে সুষ্ঠু, অবাধ ওগ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন জরুরি হলেও কোনও কোনও মহল এই নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। সরকারের কোনও কোনও উপদেষ্টা ও সরকারের সমর্থক বলে পরিচিত রাজনৈতিক দলসমূহের ভূমিকা যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের জন্য দুর্বৃত্তায়িত অর্থনীতি-রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে নীতিনিষ্ঠ বাম গণতান্ত্রিক রাজনীতির বিকল্প শক্তি সমাবেশ গড়ে তোলা এবং বাম গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল সরকার গঠনের জরুরি কর্তব্য।
২০ সেপ্টেম্বর শনিবার রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে কংগ্রেসের দ্বিতীয় দিনে চলে কাউন্সিল অধিবেশন। এতে কেন্দ্রীয় কমিটির রিপোর্ট উত্থাপন করেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রিন্স, মিহির ঘোষ ও মিডিয়া উপপরিষদের আহ্বায়ক লাকী আক্তার বিস্তারিত জানান।আলোচনায় জেলার সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে করণীয় বিষয়ে তাদের অভিমত তুলে ধরেন, যা সংযোজন বিয়োজনসহ রিপোর্ট অনুমোদন করা হবে বলে জানানো হয়।
২২ সেপ্টেম্বর সোমবার নতুন প্রতিনিধি ও কমিটি নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের সমাপ্তি হয়।


