গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা ও সেবা বিভাগ সাবেক মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য ও তাহাদের পরিবারের সদস্য মিলিয়া ৫৮৯ জনের জন্য বরাদ্দকৃত কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট বাতিল করিয়াছে। ইহাতে যাহারা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদেশের মাটিতে অবস্থান করিতেছেন, তাহারা সেই সকল দেশে নির্বিঘ্নে চলাচল করিতে পারিতেছেন না। ইহা ছাড়া এই মুহূর্তে তাহাদের হস্তে বৈধ পাসপোর্ট বা স্বীকৃত ভ্রমণ দলিল না থাকায়, তাহাদের নানাভাবে বিড়ম্বনা পোহাইতে হইতেছে। ইহাতে তাহাদের অবস্থা এখন কী, তাহা কি আমরা মানবিক দৃষ্টিতে হইলেও একবার ভাবিয়া দেখিতেছি? ইতিমধ্যে তাহাদের অনেকে নিদারুণ দুঃখকষ্টে নিপতিত হইয়াছেন। এক কথায়, তাহারা মানবেতর জীবন যাপন করিতেছেন। সাধারণত পাসপোর্ট বাতিলের কারণে এক বা দুই মাস পর তাহারা সেই সকল দেশে পারসোনা নান গ্রাটা বা অবাঞ্ছিত ব্যক্তিতে পরিণত হন।
উল্লেখ্য, তাহাদের সবাই যে কোটি কোটি টাকা পাচার করিয়াছেন বা লইয়া গিয়াছেন, তাহাও নহে। ফলে তাহাদের মধ্যে এমন অনেকে রহিয়াছেন, যাহারা বিদেশে থাকিলেও তাহাদের কোনো অর্থকড়ি নাই। ইহাতে তাহারা কী খাইয়া বাঁচিবেন? হয়তো অন্য সরকারও বিপক্ষের নেতাকর্মীদের ব্যাপারে এমনই নিষ্ঠুর পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়াছেন। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার বা পরিবর্তনের স্লোগান লইয়া ক্ষমতায় আসিয়াছে। অতীতে যাহা হইয়াছে, তাহার পুনরাবৃত্তি কি এই নূতন সরকারের জন্য কাম্য হইতে পারে? এতটা অমানবিক হওয়া কি উচিত হইবে?
সর্বোপরি পাসপোর্ট বাতিল করিবার ফলে তাহারা যেই সকল দেশে অমানবিক জীবন যাপন করিতেছেন, সেইখানে আমাদের দেশের ব্যাপারে কী বার্তা যাইতেছে? ইহাতে কি পৃথিবীময় আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হইতেছে না? গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত হইল ফ্রিডম অব মুভমেন্ট বা চলাফেরার স্বাধীনতা। কিন্তু তাহারা বিদেশ-বিভুঁইয়ে গিয়া কোথাও নিশ্চিন্তে চলাফেরা করিতে পারিতেছেন না। পাসপোর্ট বাতিলের কারণে তাহাদের জীবনে যে দুর্বিষহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হইয়াছে, সেই বিষয়টি মানবিক কারণে বিচার-বিবেচনা করিয়া দেখা প্রয়োজন বলিয়া আমরা মনে করি। এই ধরনের পাসপোর্টের মেয়াদ পাঁচ বৎসর। এমতাবস্থায় পাঁচ বৎসর পর যদি কেহ নিজ দেশে ফিরিয়া না আসেন, তাহা হইলে মেয়াদোত্তীর্ণ শেষে এমননিতেই তাহা বাতিল হইয়া যাইবে। বর্তমানে দেশে যে পরিবর্তন আসিয়াছে, তাহাতে মানুষ আশাবাদী। তাহারা চান, এই দেশ সম্মুখের দিকে অগ্রসর হইবে। কিন্তু ঢালাও বা নির্বিচারে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ কতটা যথার্থ ও ন্যায়সংগত, তাহাও ভাবিয়া দেখা দরকার।


